প্রেসিডেন্ট জিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ও সমকালীন ভূ-রাজনীতি: চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের করণীয়

লেখালোক সমসাময়িক বিষয়
প্রেসিডেন্ট জিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ও সমকালীন ভূ-রাজনীতি: চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের করণীয়

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভূ-খণ্ডে এক আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়, যার মূল কারিগর ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতাপরবর্তী পররাষ্ট্রনীতি যখন একটি নির্দিষ্ট আঞ্চলিক ও আদর্শিক বলয়ে আবর্তিত হচ্ছিল, তখন তিনি অনুধাবন করেন যে কেবল আবেগপ্রসূত কূটনীতি দিয়ে একটি নবজাত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব টেকসই করা সম্ভব নয়। ফলে তিনি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—এই নীতিকে নিছক সদিচ্ছার পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কৌশলে রূপান্তর করেন। জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের আদর্শিক সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব, মুসলিম উম্মাহ এবং উদীয়মান পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে শক্তিশালী সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করেন। এই বাস্তববাদী নীতির মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক আধিপত্যের চাপ মোকাবিলা করে বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। ভারতের সাথে ফারাক্কা বা দক্ষিণ তালপট্টি ইস্যুতে কূটনৈতিক ও সামরিক দৃঢ়তা প্রদর্শনের পাশাপাশি তিনি আমেরিকার সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং তুরস্কের সাথে সামরিক প্রশিক্ষণের ভিত্তি স্থাপন করেন। বর্তমান বিশ্বে যখন বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে ভারত, চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে, তখন বাংলাদেশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পক্ষে না গিয়ে জিয়াউর রহমানের সেই ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তার প্রবর্তিত এই ভারসাম্যমূলক কূটনীতিই প্রমাণ করে ছোট রাষ্ট্র হয়েও সমদূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে বৃহৎ শক্তিগুলোর দ্বন্দ্বকে নিজের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। জিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ছিল আত্মনির্ভরশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মিত্রতার এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা বর্তমান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।


জিয়ার ‘কৌশলগত ভারসাম্য’: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।


প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আঞ্চলিক আধিপত্যের চাপ মোকাবিলায় একক নির্ভরশীলতা কাটিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব, মুসলিম উম্মাহ ও চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে এক দূরদর্শী কৌশলগত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফারাক্কা ও দক্ষিণ তালপট্টি ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান এবং একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করেছিল। এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক পরাশক্তির প্রভাব নিরসন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুসংহত করা।


ক। ভারত ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনকালে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল। গঙ্গার পানি বণ্টন তথা ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তিনি ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিকীকরণের মাধ্যমে ভারতের ওপর বৈশ্বিক চাপ তৈরি করেন, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় দেয়। একই সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা প্রশ্নে তিনি কোনো প্রকার আপস না করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এই দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৮১ সালে, যখন ভারত বিতর্কিত দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপে তাদের নৌবাহিনীর টহল ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। ভারতের এই আগ্রাসনী মনোভাবের বিপরীতে প্রেসিডেন্ট জিয়া কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রণতরী পাঠিয়ে পাল্টা অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার এই সাহসী সামরিক পদক্ষেপ প্রমাণ করেছিল যে, ভৌগোলিক ও সামরিকভাবে ছোট রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বাংলাদেশ বিন্দুমাত্র পিছুপা হবে না। আঞ্চলিক পরাশক্তির সামরিক চাপের মুখে এই পাল্টা নৌ-অবস্থান ছিল বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক অভাবনীয় নজির। এই দৃঢ় অবস্থান ভারতের কৌশলগত আধিপত্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতি বহির্বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শেষ পর্যন্ত জিয়ার এই আপসহীন নীতি প্রমাণ করে যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং কৌশলগত সাহস থাকলে বৈরী আঞ্চলিক পরিস্থিতিতেও জাতীয় স্বার্থ ও ভূখণ্ড রক্ষা করা সম্ভব।


খ। পশ্চিমী ও মুসলিম বিশ্ব।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আঞ্চলিক পরাশক্তির সম্ভাব্য চাপ ও একমুখী প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে বৈশ্বিক মডেলে রূপান্তর করেন, যার অন্যতম স্তম্ভ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব ও মুসলিম উম্মাহর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল আঞ্চলিক শক্তির ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ, তাই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। ১৯৮০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সাথে তার উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই কৌশলগত বন্ধুত্বের লক্ষ্য ছিল ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যের বিপরীতে কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করা। এর পাশাপাশি তিনি ইসলামিক অর্গানাইজেশন ফর কো-অপারেশন-এ বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেন। বিশেষ করে ১৯৭৮ সালে তার তুরস্ক সফর ছিল এক দূরদর্শী সামরিক কূটনীতির অংশ, যা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুমুখী করার পথ প্রশস্ত করে। তুরস্কের সাথে এই সম্পর্ক কেবল শুভেচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক দীর্ঘমেয়াদী পথচলা। এর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরশীল না রেখে বিশ্বমানের পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। মূলত পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন এবং মুসলিম উম্মাহর সংহতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি অভেদ্য কূটনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।


সামরিক কূটনীতি ও সার্বভৌমত্ব।


প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক শক্তিকে কেবল যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে নয় বরং শক্তিশালী ‘ডিফেন্স ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বহিঃশক্তির আগ্রাসন মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল আঞ্চলিক চাপের মুখে সামরিক শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের সাথে নিরাপত্তা ভারসাম্য বজায় রাখা।


ক। ডিফেন্স ডিপ্লোম্যাসি।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ‘ডিফেন্স ডিপ্লোম্যাসি’ বা সামরিক কূটনীতির যে আধুনিক ধারণা প্রবর্তন করেন তা ছিল দেশের নিরাপত্তা কৌশলের বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য সামরিক বাহিনীকে কেবল সীমান্তের ভেতরে ব্যারাকে সীমাবদ্ধ রাখা যথেষ্ট নয়; বরং একে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দরকষাকষির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। তার এই দূরদর্শী চিন্তার ফলস্বরূপ বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের প্রাথমিক অনুপ্রেরণা ও পথনির্দেশনা পায়, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। জিয়াউর রহমান পেশাদারিত্ব এবং কৌশলগত প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে সেনাবাহিনীর জন্য এমন সব আন্তর্জাতিক মিত্র ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করেন, যা বাহিনীকে কেবল আধুনিক করেনি বরং বহির্বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সমকক্ষ করে তোলে। এই সামরিক কূটনীতির মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে এমন এক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলেন যা বিপদে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়। মূলত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি আঞ্চলিক পরাশক্তির আধিপত্যকামী চাপের বিরুদ্ধে এক প্রকার ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তার আমলে শুরু হওয়া এই কৌশলগত বিবর্তনই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানের পেশাদার বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এই ডিফেন্স ডিপ্লোম্যাসির মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় সার্বভৌমত্বকে এমনভাবে সুরক্ষিত করা যেন কোনো বহিঃশক্তি বাংলাদেশকে সামরিকভাবে চাপে ফেলার সাহস না পায়। তার এই নীতি বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং সম্মানিত অংশে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করে।


খ। আধুনিকীকরণ ও তুরস্ক।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিরক্ষা দর্শনের অন্যতম সফল অধ্যায় ছিল তুরস্কের সাথে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্কের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। ১৯৮১ সালে তুরস্কের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তিটি ছিল বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রথম সোপান। জিয়াউর রহমান কেবল বিদেশি অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য আমদানিকৃত অস্ত্রের চেয়েও দেশীয় মেধা ও উন্নত রণকৌশল বেশি কার্যকর। তুরস্কের সাথে গভীর সামরিক বন্ধন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বহুমুখীকরণের সুযোগ করে দেয়, যা ছিল তৎকালীন আঞ্চলিক একমুখী প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে আসার একটি সাহসী পদক্ষেপ। মূলত এই দূরদর্শী নীতির মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের বীজ বপন করা হয়েছিল। আজকের আধুনিক প্রেক্ষাপটে আমরা যে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচি দেখি, তার মূল দর্শন বা পেশাদারিত্বের ভিত্তিটি জিয়াউর রহমানের সেই প্রতিরক্ষা কূটনীতির মাধ্যমেই সূচিত হয়েছিল। বর্তমানে তুরস্ক থেকে বাংলাদেশের অত্যাধুনিক ড্রোন, রকেট আর্টিলারি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের যে ধারা চলছে তা মূলত ১৯৮১ সালের সেই কৌশলগত চুক্তিরই এক সফল বিবর্তন। তার নীতি প্রমাণ করে যে সামরিক আধুনিকীকরণ কেবল সংখ্যার বৃদ্ধি নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্য।


সমকালীন ভূ-রাজনীতি: চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ।


বর্তমান বিশ্বে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর মধ্যে যে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে বাংলাদেশ তার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এই দ্বৈরথ একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে।


ক। বঙ্গোপসাগরের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব: আইপিএস বনাম বিআরআই। 

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরে এসে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, যার লক্ষ্য এই অঞ্চলে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যদিকে চীনের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আধিপত্য সুসংহত করতে চায়। এই দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতার ফলে বঙ্গোপসাগর এখন কেবল একটি বাণিজ্য পথ নয়, বরং গভীর সমুদ্র বন্দর এবং কৌশলগত লজিস্টিক হাব স্থাপনের এক প্রধান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এবং ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা এই প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে যেখানে উভয় পক্ষই ঢাকাকে নিজ নিজ বলয়ে টানতে আগ্রহী। এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য যেমন ঝুঁকি তৈরি করছে তেমনি কৌশলগত দরকষাকষির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ আমদানির বড় সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। তবে এই মেরুকরণের রাজনীতিতে কোনো এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়া বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার নিয়ে পরাশক্তিগুলোর এই দ্বৈরথকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।


খ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ‘সমদূরত্ব’ ও জিয়ার কূটনৈতিক দর্শন। 

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান শিক্ষা হলো—কোনো নির্দিষ্ট সামরিক বা রাজনৈতিক ব্লকের অনুসারী না হয়েও কীভাবে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বমঞ্চে দরকষাকষি করা যায়। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে অনুধাবন করেছিলেন যে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য কোনো একটি পরাশক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরশীলতা তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে বিপন্ন করতে পারে। তাই আঞ্চলিক আধিপত্যের চাপ মোকাবিলায় তিনি একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছিলেন, অন্যদিকে ভারতের প্রভাব বলয় থেকে বের হতে চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন এবং শক্তিশালী অধ্যায় শুরু করেছিলেন। তার এই সমদূরত্বের নীতি ছিল মূলত একটি সক্রিয় ভারসাম্য রক্ষা, যেখানে কোনো পক্ষকেই প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সবার কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছিল। বর্তমানের জটিল ভূ-রাজনীতিতে, যেখানে চীন ও আমেরিকা বাংলাদেশকে নিজ নিজ বলয়ে টানতে মরিয়া, সেখানে জিয়ার এই ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ফার্স্ট’ নীতিটি সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি শিখিয়েছেন পররাষ্ট্রনীতি কেবল বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ। আজকের বাংলাদেশকে যদি আইপিএস এবং বিআরআই-এর দ্বন্দ্ব থেকে লাভবান হতে হয়, তবে জিয়ার মতো সাহসী ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে সমদূরত্ব বজায় রাখাই হবে টিকে থাকার মূলমন্ত্র।


বাংলাদেশের করণীয়: ‘স্ট্র্যাটেজিক হেজিং।


বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের জন্য শ্রেষ্ঠ সমাধান হলো ‘স্ট্র্যাটেজিক হেজিং’, যা কোনো এক পক্ষ অবলম্বন না করে একাধিক পরাশক্তির সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি কৌশল। এই নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধা আদায় করবে, অন্যদিকে কোনো নির্দিষ্ট শক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এড়িয়ে নিজের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখবে। মূলত ঝুঁকি কমানো এবং জাতীয় স্বার্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সুরক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।


ক। জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও SOFA চুক্তির আইনি সীমারেখা। 

বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনো বিদেশী শক্তির সাথে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বা SOFA স্বাক্ষরের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। এই ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় আইন ও সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে, যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিচারিক ব্যবস্থা কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়। বিশেষ করে বিদেশী সামরিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ‘বিচারিক দায়মুক্তি’-র মতো শর্তগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, কারণ এটি রাষ্ট্রের আইনি সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কোনো অপরাধ বা আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে বিদেশী বাহিনীকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অধীনে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার বিধান চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সামরিক সহযোগিতার নামে এমন কোনো শর্ত মেনে নেয়া যাবে না যা দেশের ভূখণ্ডে বিদেশী হস্তক্ষেপের আইনি সুযোগ তৈরি করে দেয়। প্রেসিডেন্ট জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শনই ছিল জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চে রাখা, যেখানে বৈদেশিক সহযোগিতা নেওয়া হলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করা হয়নি। বর্তমান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক স্থাপনের সময় নিশ্চিত করতে হবে যে, তা যেন কেবল প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। চুক্তির প্রতিটি ধারা হতে হবে স্বচ্ছ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।


খ। লজিস্টিক হাব ও কৌশলগত অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা। 

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিদেশি কোনো শক্তিকে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি না দেওয়া একটি অপরিহার্য নীতি। স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রাষ্ট্রকে সরাসরি কোনো একটি ব্লকের সমান্তরালে দাঁড় করিয়ে দেয়, যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে এবং যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ায়। এর পরিবর্তে বাংলাদেশ তার বন্দর ও কৌশলগত অবকাঠামোগুলোকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি জাহাজ বা বিমান কেবল জ্বালানি গ্রহণ, মেরামত ও জরুরি রসদ সরবরাহের মতো লজিস্টিক সুবিধা পাবে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে না। এই কৌশলটি একদিকে যেমন ব্লু ইকোনমি ও গভীর সমুদ্রবন্দরের অর্থনৈতিক উপযোগিতা বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে বড় শক্তিগুলোর সাথে সামরিক ইন্টারএকশন বজায় রেখে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শাণিত করবে। প্রেসিডেন্ট জিয়ার কৌশলগত দর্শনেও এই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ভারসাম্যের প্রতিফলন ছিল, যেখানে তিনি বিদেশি শক্তির সুবিধাকে জাতীয় উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। লজিস্টিক হাবে রূপান্তরের ফলে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বরং সব পরাশক্তির জন্য একটি সহযোগিতামূলক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে।


গ। কূটনৈতিক স্বচ্ছতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। 

বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে ভারত ও চীনের মতো দুটি বিশাল শক্তির নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসন করা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কিন্তু অপরিহার্য কাজ। প্রেসিডেন্ট জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির মূল নির্যাস ছিল এমন এক সমদূরত্বের কূটনীতি, যেখানে কোনো পদক্ষেপই প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক শক্তির জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। বাংলাদেশ যখন কোনো পরাশক্তির সাথে সামরিক বা লজিস্টিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে, তখন তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। বাংলাদেশকে স্পষ্ট করতে হবে যে, তার প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ কেবল আত্মরক্ষা এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ, তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, কোনো পক্ষই বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুল না বোঝে। যদি ভারত বা চীনের মধ্যে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে রাখঢাক না করে বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এর সীমাবদ্ধতা ও উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।


৬ 

পররাষ্ট্রনীতি কোনো স্থির বা অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়; বরং এটি সময়ের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং জাতীয় প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিবর্তিত হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জন্য যে ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ফার্স্ট’ বা জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার কালজয়ী নীতি প্রবর্তন করেছিলেন, তার প্রয়োজনীয়তা চার দশক পরেও ম্লান হয়নি। ১৯৭০-এর দশকের বৈরী আঞ্চলিক পরিবেশে তিনি যেভাবে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হয়েও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন, তা আজকের বাংলাদেশের জন্য এক অমূল্য শিক্ষা। বর্তমান বিশ্ব এক জটিল বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে বঙ্গোপসাগর আর কেবল একটি জলসীমা নয় বরং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই সন্ধিক্ষণে জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত বাস্তববাদী কূটনীতি আমাদের শেখায় কোনো বিশেষ বলয়ে নিজেকে বন্দি না করে কীভাবে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দরকষাকষির মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। বাংলাদেশের মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য নিরপেক্ষতা মানে নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং সক্রিয়ভাবে সব পক্ষের সাথে এমন এক সম্পর্ক বজায় রাখা যেখানে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


বর্তমান যুগে চীন-মার্কিন বা ভারত-চীন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে না দেখে বরং দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই হবে বাংলাদেশের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। পরাশক্তিগুলোর এই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদির আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ‘স্ট্র্যাটেজিক হেজিং’ বা কৌশলগত সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমাদের অবশ্যই লজিস্টিক সহযোগিতা এবং স্থায়ী সামরিক ঘাঁটির মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে হবে। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি চুক্তিতে বিচারিক দায়মুক্তি প্রত্যাখ্যান এবং জাতীয় আইনের প্রাধান্য বজায় রাখা হবে আমাদের জাতীয় অখণ্ডতার প্রধান রক্ষাকবচ। জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার কেবল তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নয়, বরং তার প্রবর্তিত সেই সাহসী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে বেঁচে আছে, যা আজও বাংলাদেশকে বহিঃশক্তির আগ্রাসন ও চাপ থেকে মুক্ত রাখার দিকনির্দেশনা দেয়। 



পোস্ট ভিউঃ 29

আপনার মন্তব্য লিখুন