১
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি গত চার দশক ধরে পাহাড় কাটা, অবৈধ দখল এবং অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হলেও সম্প্রতি ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি র্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার শাহাদাতবরণ এই সংকটের ভয়াবহতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ৩ হাজার ১০০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই দুর্গম পাহাড়ি জনপদটি এখন আর কেবল অবৈধ বসতি নয়, বরং একটি স্বায়ত্তশাসিত অপরাধ রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ নাগরিক তো বটেই, এমনকি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর প্রবেশেও প্রয়োজন হয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অনুমতির। পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশাধিকারহীন এই জনপদে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ওপর অতীতেও বহুবার হামলা হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক এই প্রাণহানি র্যাবের অপারেশনাল দক্ষতা ও সন্ত্রাসীদের দুঃসাহস নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ২০০৪ সালে যে বিশেষায়িত বাহিনীটি চরমপন্থী দমনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী সময়ে তাদের পেশাদারিত্বের ঘাটতি এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার চিত্রটি সলিমপুরের এই ট্র্যাজেডিতে ফুটে উঠেছে। একদিকে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সুসংগঠিত হামলা, অন্যদিকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়া বিশেষায়িত টিমের সমন্বয়হীনতা—উভয়ই ইঙ্গিত দেয় যে জঙ্গল সলিমপুর এখন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল ক্ষত। এখানকার পাহাড় কেটে অবৈধ প্লট বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে গড়ে তোলা সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে গুলি চালানো ও কর্মকর্তাদের ছিনিয়ে নেয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে যা রাষ্ট্রযন্ত্রের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এই অপরাধী চক্রটির বিরুদ্ধে কার্যকর ও সুপরিকল্পিত অভিযানের ব্যর্থতাই মূলত এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্য কারণ। জঙ্গল সলিমপুরের পুনরুদ্ধার কেবল একটি উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভেঙে পড়া পেশাদারিত্ব পুনর্গঠন এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনীর সক্ষমতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিতর্ক ছাপিয়ে এর ভবিষ্যৎ উপযোগিতা নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে।
২
সাফল্যের খতিয়ান ও অপরিহার্যতার যুক্তি।
২০০১ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে চরমপন্থা ও অপরাধের যে ব্যাপক বিস্তার ঘটেছিল তা মোকাবিলায় গতানুগতিক পুলিশি ব্যবস্থার বাইরে একটি দক্ষ স্ট্রাইকিং ফোর্স ছিল সময়ের দাবি। এই শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে র্যাব গঠিত হয়, যারা শুরু থেকেই তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামের মাধ্যমে অপরাধ দমনে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল। মূলত বিচারব্যবস্থার ধীরগতি এবং সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক প্রভাব বলয় ভাঙতে র্যাবের মতো একটি আপসহীন ও ক্ষিপ্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা তখন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের স্বার্থেই অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
ক। জঙ্গি দমন।
বাংলাদেশে উগ্রবাদী তৎপরতা ও ধর্মীয় চরমপন্থা মোকাবিলায় র্যাব একটি শক্তিশালী দেয়াল হিসেবে কাজ করেছে, বিশেষ করে জেএমবি এবং হুজির মতো দুর্ধর্ষ সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে। ২০০৫ সালের দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার পর শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইয়ের মতো শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ছিল র্যাবের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাফল্য। পরবর্তীকালে হোলি আর্টিজান হামলার পরবর্তী সময়ে ‘নব্য জেএমবি’র নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং একের পর এক সফল জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে তারা দেশের নিরাপত্তা স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মিত্র দেশগুলোও দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ দমনে র্যাবের এই নিরবিচ্ছিন্ন ও সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতি প্রদান করেছে। বর্তমান সময়েও সাইবার স্পেসে জঙ্গিদের নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে এই বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
খ। দুর্ধর্ষ অপরাধী নিয়ন্ত্রণ।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং ২০০০-এর শুরুর দিকে বাংলাদেশের শহরগুলোতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের যে দাপট ছিল, তা দমনে র্যাব শুরু থেকেই এক বিধ্বংসী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পুলিশের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে র্যাব তাদের বিশেষায়িত কৌশলে একের পর এক দুর্ধর্ষ অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে, যা জনমনে এক সময় হারানো স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং পেশাদার খুনিদের সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কঠোর ও আপসহীন অবস্থান তৎকালীন সময়ে অপরাধের গ্রাফকে নাটকীয়ভাবে নিচে নামিয়ে আনে। দ্রুত অপারেশন চালানোর সক্ষমতার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে এই বাহিনী এক সময় আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
গ। দ্রুত প্রতিক্রিয়া।
যেকোনো আকস্মিক সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে র্যাবের ক্ষিপ্রতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সাধারণ বাহিনীর তুলনায় তাদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় জিম্মি উদ্ধার, বড় ধরনের ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সড়ক বা নৌপথে দস্যুতা দমনে তাদের প্রশিক্ষিত সদস্যদের কমান্ডো স্টাইল অপারেশন জনগণের মধ্যে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তার বোধ তৈরি করত। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং লজিস্টিক সাপোর্টের কারণে তারা যেকোনো অপরাধ স্থালে খুব অল্প সময়ে পৌঁছাতে পারতো। একারণে অনেক সময় অনেক বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদহানির হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। মূলত ‘কুইক রেসপন্স টিম’ হিসেবে র্যাবের এই কার্যকারিতাই দীর্ঘ সময় ধরে তাদের বিশেষায়িত বাহিনীর মর্যাদা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
৩
অন্ধকার অধ্যায়: ‘সেফগার্ড’ থেকে ‘নিপীড়ক’ সংস্থায় রূপান্তর।
র্যাবের পেশাদারত্বের গৌরবোজ্জ্বল সূচনার সমান্তরালে গত দেড় দশকে তৈরি হয়েছে এক বীভৎস ও অন্ধকার ইতিহাস, যেখানে জননিরাপত্তার রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের পর থেকে বাহিনীর চেইন অফ কমান্ডকে পাশ কাটিয়ে একে বিরোধী মত দমন ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ ও গুমের মতো অসাংবিধানিক সংস্কৃতি চালু হওয়ায় এই চৌকস বাহিনীটি ক্রমশ একটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়ক সংস্থায় রূপান্তরিত হয়।
ক। গুমের সংস্কৃতি।
গুমের মতো চরম অমানবিক ও ভয়াবহ সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় মূলত র্যাবের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। র্যাবের বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তাই একটি গুরুতর এবং আলোচিত বিষয়। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং কিছু তদন্ত কমিশন এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন জানিয়েছে যে, তাদের কাছে আসা ১,৮৫০টির বেশি অভিযোগের মধ্যে ২৫৩টি গুমের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কমিশন অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় র্যাব সবচেয়ে বেশি জড়িত। বিশেষ করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গুমের ঘটনাগুলোর মধ্যে র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০.৩৮%)। এছাড়াও তদন্ত কমিশন ঢাকা ও আশপাশে আটটি গোপন আটক কেন্দ্রের খোঁজ পেয়েছে, যেখানে গুম হওয়া ব্যক্তিদের বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে র্যাবের গোপন বন্দিশালা “আয়নাঘর” এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত এই তুলে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি কেবল আইনের শাসনকেই ধ্বংস করেনি, বরং শত শত পরিবারকে তাদের প্রিয়জনদের অপেক্ষায় এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
খ। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।
‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর মতো বানোয়াট গল্পের আড়ালে প্রচলিত বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সন্দেহভাজনদের হত্যার একটি ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি র্যাবের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এই প্রক্রিয়ায় আত্মরক্ষার অজুহাত দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই শত শত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, যা আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রীয় মদতে হত্যার এক অনিয়ন্ত্রিত ধারা তৈরি করেছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের এই চরম বহিঃপ্রকাশ র্যাবকে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর পরিবর্তে একচ্ছত্র আধিপত্যবাদী ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী সংস্থায় পরিণত করে।
গ। লিমন হোসেন ইস্যু।
ঝালকাঠির রাজাপুরে নিরীহ কিশোর লিমন হোসেনকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনাটি র্যাবের পেশাদারত্বের চরম বিচ্যুতি ও নিষ্ঠুরতার এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। একটি অপরাধী চক্রকে ধরতে গিয়ে নিরপরাধ লিমনের পা কেড়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তাকেই উল্টো অভিযুক্ত করে মামলা দেয়া ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লিমনের আইনি লড়াই এবং র্যাবের বিরুদ্ধে তার অনড় অবস্থান এই বাহিনীর সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবিকে আন্তর্জাতিক মহলে যৌক্তিক ভিত্তি দান করেছে।
ঘ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং এর সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার পর র্যাবের বিরুদ্ধে গুমের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে কিছু মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি আইনের আওতায় র্যাবের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ২০২৫ সালের জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বর্ণিত ‘সিস্টেমেটিক রিপ্রেশন’-এর চিত্র এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক এই চাপ ও দালিলিক প্রমাণগুলো প্রমাণ করে যে, বিশেষায়িত এই বাহিনীটি অনেক ক্ষেত্রে আইনি সীমানা লঙ্ঘন করে মানবাধিকারের চরম অবমাননা করেছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশ্বজুড়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মূলত এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে র্যাবের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন কেবল জাতীয় নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়েছে।
৪
৫ই আগস্ট পরবর্তী বাস্তবতা ও পেশাদারিত্বের অবক্ষয়।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এক নজিরবিহীন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন সদস্যের আহত হওয়ার ঘটনা বাহিনীর বর্তমান ভঙ্গুর অপারেশনাল ও মানসিক অবস্থার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হওয়ায় এবং ৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনরোষের মুখে পড়ার কারণে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যে ‘মানসিক চিড়’ ধরেছে, তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে তাদের পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতায়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সিনিয়র সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার শুরু হওয়া বাহিনীর চেইন অফ কমান্ডে অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে মনেকরা হয়। যে বাহিনীটি এক সময় দেশের যেকোনো ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার ছিল, তারা আজ দুর্গম পাহাড়ে নিজেদের সুরক্ষা দিতে এবং সাধারণ সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করতেই হিমশিম খাচ্ছে। নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি এবং মাঠ পর্যায়ের অপারেশনে সমন্বয়হীনতা প্রমাণ করে যে, সংস্কার ছাড়া এই বাহিনীর পুরোনো গৌরব ফিরে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বর্তমান এই ক্রান্তিকালে একদিকে আইনি লড়াইয়ের ভয় এবং অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে পেশাদারিত্বের অবক্ষয়—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে র্যাব এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ও অনিশ্চিত সময় পার করছে। সামগ্রিকভাবে, জঙ্গল সলিমপুরের ট্র্যাজেডি কেবল একটি বিফল অপারেশন নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর কাঠামোগত ও নৈতিক পতনের এক সতর্কবার্তা।
৫
বিলুপ্তি নাকি সংস্কার: দুই মেরুর বিতর্ক।
র্যাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে দেশের নীতিনির্ধারক ও মানবাধিকার মহলে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী মতধারা প্রবল হয়ে উঠেছে। একদিকে দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জাতিসংঘের সুপারিশ অনুযায়ী বাহিনীটি বিলুপ্ত করার জোরালো দাবি উঠছে, অন্যদিকে একদল মনে করছেন এর বিশাল কাঠামো ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে একে নতুন রূপে গড়ে তোলা সম্ভব। এই ‘বিলুপ্তি বনাম সংস্কার’ বিতর্কটি মূলত বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখার মধ্যবর্তী এক চরম নৈতিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।
ক। বিলুপ্তির পক্ষে যুক্তি।
১২ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকজন র্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে লিমন হোসেন র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানান। সেদিন তিনি বলেন, ‘র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গুম, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অভিযোগ আছে। তাই আমি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানাচ্ছি’ (র্যাব বিলুপ্তির দাবি র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ, ডেইলি স্টার অনলাইন, ১২ নভেম্বর) । মানবাধিকার কর্মী, গুমের শিকার হওয়া পরিবার এবং লিমন হোসেনের মতো ভুক্তভোগীদের মতে, র্যাব গত দেড় দশকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আড়ালে একটি ‘খুনে বাহিনী’ বা নাৎসি বাহিনীর ‘গেস্টাপো’র মতো নিপীড়ক সংস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় (OHCHR) এবং গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সুপারিশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, র্যাবের অপরাধগুলো একক কোনো ব্যক্তির বিচ্যুতি নয়, বরং এটি একটি পদ্ধতিগত সমস্যা, যা কেবল সংস্কার দিয়ে সংশোধন করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, ১২টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দাবি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এই বাহিনীর নৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশের অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে র্যাব বিলুপ্ত করে এর সকল সরঞ্জাম ও দক্ষতাকে নিয়মিত পুলিশের বিশেষায়িত এবং জবাবদিহিমূলক ইউনিটের অধীনে ন্যস্ত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। এছাড়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কোনো আধা-সামরিক বাহিনীর হাতে বেসামরিক তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতার নজির থাকা উচিত নয় বলে তারা মনে করেন। মূলত আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংস্থাকে চিরতরে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
খ। সংস্কারের পক্ষে যুক্তি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং সরকারের অনেক নীতি-নির্ধারকের মতে, র্যাব বিলুপ্ত করার চেয়ে এর শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও আধুনিক লজিস্টিক সাপোর্টকে কাজে লাগিয়ে আমূল সংস্কার করা বেশি যৌক্তিক। তাদের যুক্তি হলো, গত দুই দশকে গড়ে ওঠা এই বিশাল অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত জনবলকে বাদ দিলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হতে পারে। সংস্কারপন্থীদের প্রস্তাব অনুযায়ী বিতর্কিত ও অপরাধে জড়িত আগের কর্মকর্তাদের সরিয়ে নতুন এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অফিসারদের মাধ্যমে বাহিনীটিকে “নতুন আঙ্গিকে” ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে। এপ্রসঙ্গে আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম-এর র্যাব নিয়ে তার ফেসবুকে দেয়া একটা পোস্টের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে র্যাব সদর দপ্তরে একটি অনুষ্ঠানে ‘আলোচক’ হিসেবে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি বেশ কিছু ছবি সংযুক্ত করে র্যাব নিয়ে লেখেন, ‘...এক নিকৃষ্ট স্বৈরশাসক ও এক নিপীড়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি সফল বাহিনীকে কিভাবে খুনে বাহিনীতে পরিণত করেছিল তার দৃষ্টান্ত এই RAB. প্রতিষ্ঠার পর জনমনে আশা জাগানিয়া এই বাহিনীটি পরবর্তীতে জনগনের ঘৃনা ও আতংকের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ৫ই আগষ্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতার পর বদলে যাওয়া বাংলাদেশে এই বাহিনীটিকে কিভাবে আবার জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের বাহিনীতে পরিণত করা যায় তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও নানা প্রচেষ্টা চলছে। এই বাস্তবতায় আগের অফিসারদের বাদ দিয়ে RAB কে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে।...’
তারা মনে করেন একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন তদারকি কমিশন গঠন এবং বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে র্যাবকে জনগণের আস্থার বাহিনীতে রূপান্তর করা সম্ভব। এছাড়া সামরিক ও বেসামরিক সদস্যদের সংমিশ্রণে গঠিত এই বিশেষায়িত বাহিনীকে একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে এনে কেবল সুনির্দিষ্ট ও কঠিন অপরাধ দমনে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। মূলত রাষ্ট্রীয় অর্থের বিপুল বিনিয়োগে তৈরি এই সংস্থাকে বিলুপ্ত না করে এর ভেতরকার জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
৬
বিকল্প পথ: র্যাব না থাকলে কী হবে?
র্যাব বিলুপ্ত বা রূপান্তরিত হলে দেশের অপরাধ দমনে যে কৌশলগত শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা মোকাবিলার জন্য একটি সুপরিকল্পিত বিকল্প কাঠামো প্রয়োজন। মূলত পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর আধুনিকায়ন এবং একটি স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমেই র্যাবের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা সম্ভব। একটি কার্যকর ও মানবাধিকার-বান্ধব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে শক্তির চেয়ে আইনি জবাবদিহিতার ওপর ভিত্তি করেই এই বিকল্পগুলো সাজাতে হবে।
ক। পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি।
র্যাবের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিশেষায়িত ইউনিট যেমন—সিটিটিসি (CTTC), এটিইউ (ATU), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং সোয়াট (SWAT)-কে জাতীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করা অপরিহার্য। এই ইউনিটগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আন্তর্জাতিক মানের কমান্ডো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তারা যেকোনো বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা বা জিম্মি সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়। জেলা পর্যায়ে এই বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর শাখা বিস্তারের মাধ্যমে র্যাবের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা সম্ভব, যা পুলিশের চেইন অফ কমান্ডকে আরও সুসংগঠিত করবে। একইসাথে এই ইউনিটগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে একটি স্বাধীন পেশাদার কাঠামো প্রদান করা প্রয়োজন যাতে তারা কেবল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদানের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই একটি দক্ষ ও জনবান্ধব বিকল্প বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব।
খ। স্বতন্ত্র তদারকি কমিশন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন তদারকি কমিশন গঠন করা এখন সময়ের দাবি। এই কমিশন বাহিনীর প্রতিটি অপারেশনের বৈধতা যাচাই করবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিচারবহির্ভূত যেকোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনার পূর্ণ ক্ষমতা রাখবে। এতে বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যেমন শাস্তির ভয় কাজ করবে তেমনি সাধারণ নাগরিকেরা বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার হাত থেকে আইনি সুরক্ষা পাবে। মূলত স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
গ। ডেপুটেশন প্রথা বাতিল।
বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সেনাবাহিনী বা অন্যান্য সামরিক বাহিনী থেকে ডেপুটেশনে সদস্য আনার প্রথা দীর্ঘমেয়াদে পুলিশের পেশাদারিত্বকে বাধাগ্রস্ত করে তাই এই ব্যবস্থার অবসান ঘটানো প্রয়োজন। এর পরিবর্তে পুলিশের নিজস্ব ক্যাডার ও ফোর্সকে আন্তর্জাতিক মানের কমান্ডো এবং ইন্টেলিজেন্স প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুললে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও চেইন অফ কমান্ড আরও শক্তিশালী হবে। একটি একক বাহিনীর অধীনে বিশেষায়িত ইউনিটগুলো পরিচালিত হলে আইনি জটিলতা কমে আসবে এবং মাঠ পর্যায়ে অভিযানের সময় মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা সহজতর হবে। দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গঠনই হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে টেকসই নিরাপত্তা সমাধান।
৭
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের ভবিষ্যৎ আজ কেবল একটি বাহিনীর টিকে থাকা বা না থাকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি ২০২৬ সালের বদলে যাওয়া বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত যেমন বাহিনীর পেশাদারিত্বের অবক্ষয়কে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে, তেমনি গত দেড় দশকের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি একে জনমনে এক আতঙ্কের প্রতীকে পরিণত করেছে। একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো বাহিনীর কার্যকারিতা কখনোই নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকারের চেয়ে বড় হতে পারে না। তাই র্যাবের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকারকে অবশ্যই জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং গুম হওয়া পরিবারগুলোর দীর্ঘশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বাহিনীর বিশাল অবকাঠামোকে কাজে লাগাতে হলে একে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বেসামরিক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে, অথবা বিকল্প হিসেবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে শক্তিশালী করে একটি পেশাদার ও জনবান্ধব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে যে, অপরাধ দমনে কোনো ‘শর্টকাট’ বা বিচারবহির্ভূত পথ কাম্য নয়, বরং আইনের শাসন ও মানবাধিকারই হলো স্থিতিশীল নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।
পোস্ট ভিউঃ 28