পৃথিবীর পথে পথে কুড়িয়ে পাওয়া অভিজ্ঞতার নির্যাসই হলো সাহিত্য, যা ক্ষণস্থায়ী জীবনকে অমরতা দেয় আর সময়ের বুকে এঁকে যায় অবিনশ্বর প্রতিচ্ছবি।


'টুকরো কথা'-র আজকের পর্বে কথা বলেছি আগামী বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাওয়া আমার ৩টি নতুন বই নিয়ে। এই বছর আসছে একটি কাব্যগ্রন্থ এবং দুটি প্রবন্ধের বই। ভিডিওতে বইগুলোর ভাবনা, বিষয়বস্তু এবং পেছনের টুকরো গল্পগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নিয়ে লেখা আমার ‘জুলাইয়ের রাজপথ’ কবিতাটি পাঠক ও শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে রেখাপাত করেছে। 'টুকরো কথা'-র আজকের বিশেষ পর্বে প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান টুনু কবিতাটি নিয়ে তাঁর নিজস্ব অনুভূতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একজন গুণী আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠে ও ভাবনায় কবিতাটির এই মূল্যায়ন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণার।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথের রক্ত, ত্যাগ ও প্রতিরোধের স্মৃতি থেকে লেখা ৩টি কবিতা নিয়ে 'টুকরো কথা'-র আজকের এই পর্ব। ভিডিওতে কথা বলেছি কবিতাগুলো লেখার পেছনের প্রেক্ষাপট ও অনুভূতির গল্প নিয়ে, এবং পাঠ করেছি 'জুলাইয়ের রাজপথ' কবিতার কিছু অংশ।

বইমেলা ২০২৪ উপলক্ষে আমার পাঠকদের জন্য নিয়ে এলাম নতুন কিছু কাজের খবর। 'টুকরো কথা'-র এই পর্বে কথা বলেছি এই বছর প্রকাশিত হতে যাওয়া আমার ৩টি নতুন বই নিয়ে—যার মধ্যে রয়েছে একটি প্রবন্ধ, দুইটি উপন্যাস এবং একটি কাব্যগ্রন্থ। বিশেষভাবে আলোচনা করেছি আমার নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘তোমার নামে নৌকা ভাসাই’ নিয়ে। বইটির পেছনের গল্প, ভাবনা এবং অনুভূতির কিছুটা অংশ শেয়ার করলাম এই ভিডিওতে।

"তোমাকে ছিল বড় প্রয়োজন" — এক নিদ্রাহীন রাতের গল্প, যেখানে ভালোবাসা রয়ে গেছে অপূর্ণ। গানের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছে এক গভীর হাহাকার, যে মানুষটি এখন অন্য কারো জীবনে, তবু মন কিছুতেই তাকে ভুলতে রাজি নয়। জমাটবদ্ধ স্বপ্ন, ঘুমহীন চোখ আর না কাটা রাত — সব মিলিয়ে এ এক আক্ষেপের সুর। ভালোবাসার একতরফা যন্ত্রণা, না পাওয়ার বেদনা আর মনের জেদ — এই গানে ধরা পড়েছে অসাধারণভাবে।

একফালি রোদ তোমার উদাসীন বারান্দায়......আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি একটা গানের কিছু অনুভূতি। 'পিচঢালা রাজপথ' আর 'উদাসীন বারান্দা'র চেনা পটভূমিতে লেখা এই গানটি মূলত গভীর প্রেম, অপেক্ষা আর এক অপার্থিব অনুভূতির কাব্যিক গল্প। বিকেলের সোনা রোদ কিংবা ঝিরঝিরে বৃষ্টি—প্রকৃতির এই রূপগুলো যেন প্রিয় মানুষের উপস্থিতি আর মায়াকে ছুঁয়ে দেখতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। বাস্তবতার কোলাহল ছাড়িয়ে গানের এই সুর নিয়ে যেতে পারে সাতরঙা মেঘের দেশে, যেখানে কোনো এক পূর্ণিমায় নীহারিকায় ঘর বাঁধার আকুল স্বপ্ন ডানা মেলে। প্রতিটি লাইনে লুকিয়ে থাকা অপেক্ষা আর ভালোবাসার তীব্রতা কারও মনে হয়তো একচিলতে উদাসীন বিকেলের মতোই দোলা দিয়ে যাবে বারবার। গানটি শুধু কিছু শব্দের মেলবন্ধন নয়, বরং হৃদয়ের গহীন কোণে লুকিয়ে থাকা এক চিরন্তন অপেক্ষার সুর। আশা করি, গানটি আপনাদের ছুঁয়ে যাবে।

"শেষের খুব কাছে" কবিতাটি বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ আর বিষাক্ত তিক্ততার মুখোমুখি হয়ে সম্মানের সাথে সম্পর্কের ইতি টানার এক পরিণত উচ্চারণ। পাশাপাশি পথ হেঁটেও মন ছুঁতে না পারার ব্যর্থতা, শব্দের অপমৃত্যু এবং অহেতুক দোষারোপের আগেই কবি বেছে নিয়েছেন আত্মমর্যাদাপূর্ণ এক বিচ্ছেদ। এক আকাশের নিচে না থেকে ছাদ বদলে ফেলার এই কঠিন সিদ্ধান্তে যেমন আছে দূরত্বের টান, তেমনি ভবিষ্যৎ দেখা হওয়ার দিনেও ঘৃণা এড়িয়ে অন্তত সামান্য খবরের খোঁজ নেওয়ার ব্যাকুলতা। বিষাদময় এই সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা তাঁর সুগভীর, দরাজ ও দরদী কণ্ঠে ভাঙনের এই মুহূর্তকে এক মায়াবী রূপ দিয়েছেন। সম্পর্কের ক্ষয়ে যাওয়া আর শ্রদ্ধাপূর্ণ বিদায়ের এই করুণ অনুভূতি হৃদয়ে অনুভব করতে কান পাতুন সম্পূর্ণ পরিবেশনায়।
বন্ধনহীন গ্রন্থি

"শেষের খুব কাছে" কবিতাটি মূলত তিক্ততা আর ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল টপকে এক অমলিন শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে দূরে সরে যাওয়ার এক প্রাপ্তবয়স্ক কাব্যিক বিদায়গাথা ‘শেষের খুব কাছে’ কবিতাটি। কথার দেউলেপনা, অহেতুক হিংসা আর মিথ্যার খোলস ছেড়ে 'রওনক' চরিত্রের উদ্দেশ্যে লেখা এই আখ্যানে কবি উপলব্ধি করেছেন সম্পর্কের ইতি টানার রূঢ় সত্যকে। পরম মমতায় পথ আলাদা করে নেওয়ার এই ব্যাকুল আকুতি—যেন ভবিষ্যতে হঠাৎ দেখা হলেও মুখের বদলে ঘৃণা না ফুটে ওঠে, বরং থেকে যায় খবরের খোঁজ নেওয়ার ন্যূনতম সৌজন্য। ছাদ আর আকাশ বদলে যাওয়ার এই কঠিন বাস্তবতাকে আবৃত্তিশিল্পী নুসরাত রাইসা তাঁর গম্ভীর, সুগভীর ও সংবেদনশীল উচ্চারণে এক অসামান্য মাত্রা দিয়েছেন। ভাঙনের তীব্র যন্ত্রণার মাঝেও এই শ্রদ্ধাপূর্ণ বিচ্ছেদের অনুভূতিকে নিজের গভীরে ধারণ করতে শুনতে পারেন সম্পূর্ণ আবৃত্তিটি।
বন্ধনহীন গ্রন্থি

"সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে" কবিতাটি অসমাপ্ত পরিণতি জেনেও প্রাত্যহিক ছোট ছোট সুতোয় মন বাঁধার এক অম্লমধুর প্রেমগাথা। মুঠোফোনের আলোয় ভেসে ওঠা গভীর রাতের ফিসফিসানি, সকালের চায়ের কাপে জমতে থাকা খুদেবার্তা, কিংবা বসের ওপর হালকা রাগের ভাগ বাঁটোয়ারা—প্রতিটি মুহূর্তে মিশে ছিল ভালোবাসার এক স্বর্গীয় আবেশ। কোনো ভবিষ্যৎ কিংবা সফল সমাপ্তি নেই জেনেও ভেজা বালিশ আর নিঝুম দেয়াল ঘড়িকে গোপনে সাক্ষী রেখে, এক সুতোর ঝুলন্ত ডগায় দাঁড়িয়ে একে অপরকে ভালোবেসে যাওয়ার এই করুণ ব্যাকুলতাকে আবৃত্তিশিল্পী পৃথা তাঁর দরদী ও সুগভীর উচ্চারণে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। নিশ্চিত বিচ্ছেদের মুখেও বেঁচে থাকা সেই না-ভোলা অনুভূতির গভীরে ডুব দিতে উপভোগ করুন এই আবৃত্তিটি।
জলের কাছে যাবো

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও প্রাত্যহিক ক্ষুদ্র মায়ায় জড়িয়ে থাকা এবং কাঁচের দেয়ালের মতো ভঙ্গুর এক প্রেমের নিখুঁত দলিল "সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে" কবিতাটি। মুঠোফোনের পর্দায় দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি গল্প, খুদেবার্তার ওমে ঘেরা সকাল, কিংবা টেকো বসকে নিয়ে জমে ওঠা খুনসুটি—সবকিছুর আড়ালে লুকিয়ে ছিল না-পাওয়ার সুগভীর এক ব্যাকুলতা। বিচ্ছেদের পরিণতি স্পষ্ট জেনেও ভেজা বালিশ আর রাতজাগা দেয়াল ঘড়িকে সাক্ষী রেখে এক সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে ভালোবেসে যাওয়ার এই করুণ মিষ্টি অনুভূতিকে আবৃত্তিশিল্পী নুসরাত রাইসা তাঁর দরাজ, দরদী ও সুগভীর কণ্ঠের উচ্চারণে এক অনন্য মায়াজালে রূপ দিয়েছেন। অসমাপ্ত প্রেমের এই আকুল কাব্যিক সফরের অনুভূতি হৃদয়ে ধারণ করতে আমন্ত্রিত আপনি।
জলের কাছে যাবো