আজ সকালটা যেন অন্যসব দিনের মতো নয়,
আকাশ খানিকটা মেঘলা কিংবা
ডিমের ফেটানো কুসুমের মতো সূর্যের আলসেমি ভাঙ্গেনি,
চারদিকে কুয়াশার মতো মনখারাপ ছুঁয়ে আছে,
ছাদের কার্নিশে দাঁড়কাকটা অকারণে চীৎকার করছে।
সময়ের ভারে সিটি কর্পোরেশনের ক্লান্ত ময়লার গাড়ি
নগরের স্বেদ-বর্জ্য-রেতঃ দূর করার তাড়নায়-
ছুটে চলছে এক বাড়ি থেকে অন্যবাড়ির উঠোন,
বুয়া লাগবে গো..... বুয়া......
জঠরের দেউটিতে কেউ হাঁক দিয়ে যায়।
চায়ের দোকানের পাতিলে দুধের বলক আর
রেডিওর ভলিউম নব ওঠানামা করে সহসাই থেমে গেলে
সাঁইয়া দিল মে আনা রে.....
পাশের ফ্ল্যাটের জানালায় শীৎকার জমে থাকা ভোর
দুঃস্বপ্নে চীৎকার করে ওঠা নবজাতক শিশু, থেমে যায়।
একটা সাইকেল সাঁ করে বেরিয়ে গেল,
ছুঁড়ে দিয়ে গেল রেকাবে সাঁটানো দিবসের খবর
ক্ষুন্নিবৃত্তির রাজনীতি, অর্থ সংকট অথবা মৃত্যুর ঘটনা,
এরকম একেকটা সকালে কতকিছু ঘটে যায়!
কতকিছু ফ্রেমে বন্দি, কতকিছু! আমরা খবর রাখিনা।
হেমন্তের ফিনফিনে বাতাসে কেঁপে ওঠে রোদ
টবের রঙিন বোগেনভিলিয়া
উজ্জ্বল মসৃণ লাল-সবুজের মুগ্ধতায় তাকিয়ে ভাবি,
তোমাকে চুমু খেতে না পারা আরেকটা দিন এভাবেই
এভাবেই কেটে যায় স্মৃতির বিষন্ন ক্যানভাসে।
