বনানীর এগারো নাম্বার রোড-
সূর্যটা তখনও মাথার ওপরে পেন্ডুলামের মতো ঝুলে আছে,
তোমার ছিল ডেন্টিস্টের কাছে যাবার তাড়া-
আর আমার ছিল তোমাকে কাছে পাবার সুখ!
ক্লিনিক থেকে খানিকটা এগিয়ে ওপাড়েই ডমিনাস পিজ্জা
একগোলার্ধ অভিমান বুকে চেপে সেখানেই বসেছিলাম,
টেবিলের বিপ্রতীপ দ্বন্দ্বে আমরা তখন মুখোমুখি
তুমি বসেছিলে মাথা নিচু করে, অথচ-
আমার ছিল তোমাকে ঘিরে ছায়াসূর্যের মুগ্ধতা!
রোদজ্বলা বৃষ্টিতে বিভ্রান্ত ফড়িঙের মতো-
মরিয়া হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘ভালোবাসো?
শুধু একবার বলো,
শুধুমাত্র একবার! একটিবার!’
তুমি হতবিহবল দু’চোখে তাকিয়েছিলে, তারপর-
কফির কাপে চামচের টুংটাং থেমে গেলে বলেছিলে,
‘উত্তরটা একবারই দিব,
আর কখনো জানতে চাইবেন না, প্লিজ!’
তারপর, আবারও খানিকটা চুপচাপ,
সময়ের কাঁটা দালির পরাবাস্তব পেইন্টিং-এর মতো
কফির কাপ-টেবিলের কোণ-সবখানে গলে পড়ছে যেন,
তুমি কী যেন ভাবলে-নখ খুটলে, তারপর-
মোমের স্নিগ্ধ আলোর মতো মৃদুস্বরে বললে, ‘ভালোবাসি’।
সেও ঐ একবারই,
সেদিন ঝাউবনে সহস্র মুনিয়ার প্রবল উচ্ছ্বাসের মতোন-
আমার পৃথিবীটা যেন কেঁপে উঠেছিল!
আমি কিন্তু কথা রেখেছিলাম,
আর কখনো জানতেও চাইনি ভালোবাসো কীনা!
দু’শো ঊনসত্তর দিনের সম্পর্কটা অ্যাশট্রে-তে গুঁজে
তোমার সাথে ক্লিনিকের রিসিপশন অবধি গিয়েছিলাম,
এপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজনে ফোন নাম্বার দিতে হয়েছিল,
সেই থেকে ডেন্টিস্টের ক্ষুদেবার্তাগুলো………
রুট ক্যানেলিং-এর কীসব আজব অফার! অথচ-
হৃদয় চৌকাঠে সেই যে হার্ট ক্যানেলিং করে চলে গেলে
তোমার কাছ থেকে আর কোন বার্তা আসেনি।
