: আমাকে মনেপড়ে?
: মুঠোফোনে খুদে বার্তার নোটিফিকেশনে, ওটা বেজে উঠলেই…… খুব করে।
: কেন?
: ওভাবে সময়ে অসময়ে আর কেউ কখনো……
: আর কখন? কোন সময়?
: অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তার ওধারে, ট্যাক্সিটা নেয়ার সময়।
: কেন?
: পরম যত্নে রাস্তা পার করে দিতেন, হাত ছুঁয়ে থাকার বাহানায়। আমিও ছোট্ট শিশুটি যেন!
: মিস করো?
: কফির কাপে চিনি মেশাবার সময়টাতে, আছে কিছু স্মৃতি, আরও।
: আরও! আর কি কি স্মৃতি আছে আমার!
: আপনি জানতেন ব্ল্যাক কফি উইথ ব্রাউন সুগার, আলাদা করে। মাত্র এক চামচ, মাঝে মাঝে ছলকে যেত। আপনিই মুছে দিতেন আর......
: আর কি? শুনছি, বলতো।
: ইচ্ছে করেই আঙ্গুল ছুঁয়ে দিতেন, এইতো।
: আর!
: রিকশাতে যখন বসতাম পাশাপাশি, রাজপথে ভীষণ ভিড় মানুষের চীৎকার।
: সেটা কীরকম! মানে!
: ডান দিকে বসে আমার বাঁ কাঁধ ধরে রাখতেন যেন পড়ে না যাই আচমকা ব্রেকের টানে।
: সবই তো জানো দেখছি। তা বলো দেখি, কেন ওরকম করতাম?
: ছুঁয়ে থাকবার ইচ্ছেয়। সেটা আমি বেশ বুঝতাম।
: সবই বুঝতে অথচ কখনও বলোনি, কেন!
: এমনিতেই যতোটা পাগল! আমার সব কূল ভাবতে হয়না যেন!
: কেন এতো ভাবনা! এতো ভাবনা কীসের?
: ভেসে যাবার ভয়। নিজেকে হারিয়ে ফেলবার আশঙ্কা, অস্তিত্বের।
: কিন্তু আমিতো ডুবে গেছি।
: সেটা জানি বলেই তো যত ভয়। সেজন্যই পশ্চিম আকাশের নক্ষত্রদের মতো, দূরে সরে থাকছি।
: এই যে ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা, তোমার ভালো লাগতো না!
: ভালো না লাগলে এত ঝামেলা সামলে আসতাম কি! আমার সমস্যা কখনো বুঝতেন না।
: আর কি কখনো দেখা হবে? কবে হবে?
: যদি বেঁচে থাকি, হয়তো আবারো, হয়তো এভাবে!
: ভালো আছো জানি, স্বামী সংসার নিয়ে।
: আপনিও তো বেশ ভালোই আছেন, সংসার-চাকরি, সবদিক দিয়ে।
: তাহলে কি এভাবেই! এভাবেই সারাজীবন?
: হয়তো এভাবেই, শরীর থেকে হয়তো বিচ্ছিন্ন আমাদের মন!
: মানি না। মানতে চাইনা।
: আমাদের আছে ধূসর ইতিহাস, গন্তব্যটা যে এখনো অজানা।
: তাহলে! অনুভূতি কী তবে শেষ! কিছুই কী নেই বাকী!
: আছে বলেই তো মুঠোফোনের পর্দায় আজো তাকিয়ে থাকি।
