: আপনি! স্টুডিওতে যে! রেকর্ডিং আছে বুঝি!
: না। কিছু কাজ বাকী ছিল, সেগুলো নিতেই……
: নতুন কি লিখলেন!
: আজকাল ওসব আর হয়না।
: মানে!
: একদিন বলেছিলাম, তুমি যেদিন যাবে সবটা চুরি করে নিয়ে যাবে, এমনকি লেখালেখির ইচ্ছেটাও।
: কি বলছেন! পাগলামিটা এখনো যায়নি দেখছি! এখনো আগের মতই।
: তা বলতেই পারো, সে তোমার বাক স্বাধীনতা।
: আজব।
: একদিন তোমার পুরোটা ছিল লেখার খাতা। হাসিটা ছিল রুবাই, কপোলের টোলটা সিজো আর চিবুকের তিল ছিল লিমেরিক। তুমি চাইতে অনুপ্রাস, আমি ওষ্ঠ আর অধরে মিলিয়ে দিতাম, তুমি চাইতে সনেট আমি চুলের কালো বন্যায় মেখে দিতাম। তুমি যা চাইতে চোখের গভীরে লিখে দিতাম।
: ইসস!
: তুমি চলে গেছো মেটাফর আর সিমিলির সবটা নিয়ে। কলম থেকে এখন যা বেরোয় তা গীতিকাব্য নয়, অণুকাব্য নয়, হাইকু নয়। তা আসলে লোহু। একেকটা দিন ছাইয়ের স্তুপ থেকে ঘুরে দাঁড়াবার অভিপ্রায়।
: আসলেই কি কিছুই লিখছেন না।
: অনুভুতি তো মিথ্যে নয়, মিথ্যে নয় দেয়া যত প্রতিশ্রুতি।
: কখনো লিখতে তো বারণ করিনি, করেছি কী!
: কিন্তু আমি তো বলেছিলাম, তুমি যেদিন চলে যাবে সেদিন থেকে আর কবিতা লিখবো না। ডায়েরীর বিবর্ণ পাতায় অপেক্ষার প্রহর গুনবে একটা হলুদ চঞ্চল প্রজাপতি।
: পাগল!
: তোমাকে ভালোবেসে……
: ভালোবাসা নয়, ওটাকে ইনফেচুয়েশন বলে। দেখবেন একদিন সব ঠিক হয়ে গেছে।
: না। সোনার মোহর চাইনি, শরীরের দখলদারি চাইনি, চাইনি ওষ্ঠে চুম্বনের অধিকার। শুধু ভালোবাসা চেয়েছিলাম। যতোটা ভালোবাসলে নিজেকে একটা মানুষ বলে মনেহয়। সিদ্ধার্থের জীবন, সেতো আমার নয়!
: কিন্তু আমাদের মাঝে ওরকম কিছু কখনো ছিল না। খুব বেশি হলে আমি হয়তো ছিলাম রঙিন পেন্সিলে আঁকা প্রচ্ছদ আর কবিতাগুলো আপনার একান্ত প্রহরের ভ্রান্তিবিলাস। আমাদের মাঝে যা ছিল তা আসলে মুহুর্তের ভালোলাগা।
: তা তুমি বলতেই পারো, ঐ যে বললাম……
: আমি তো চেয়েছিলাম আজীবন বন্ধুত্ব, আর আপনি কীনা দূরে ঠেলে দিলেন……
: ভালো থেকো, আসি।
: শুনুন, ওভাবে যাবেন না। শুনুন।
: তোমার চিবুকের কাছে ফিরে আসতে চাই। বারবার… তবে এভাবে নয়। অন্য আরেক জীবনে, অন্য আকাশের নিচে। সেখানে শুধুই তুমি, শুধুই তুমি আর আমি।
