: হ্যালো।
: কি খবর! কেমন আছো?
: এলেন না যে! গুনে গুনে দু’বার বলেছিলাম। এতো অহংকার!
: অহংকার! না তো, গিয়েছিলাম…
: তাহলে দেখলাম না যে!
: খুঁজেছিলে বুঝি! তোমাকে ঘিরে লেনিন-স্ট্যালিন-চসেস্কু’র ভিড়, আমি সেখানে বড্ড বেমানান......
: হেঁয়ালি রাখুন তো! দেখলাম না কেন বলুন।
: হেঁয়ালি নয়। তুমি চেয়েছো তাই এ নির্বাসন, বানপ্রস্থে আছি। আবার তুমি চেয়েছো বলেই ধূমকেতুর মতো ছুটে যাওয়া! প্রথম একক পরিবেশনা! একদিন এটা নিয়েই কত পরিকল্পনা করেছি!
: কেমন লাগলো? মন্তব্য শুনতে চাই, তবে অন্যদের মতো করে নয়। একদম সত্যিটা।
: নিন্দুকরাও কখনও তোমার আবৃত্তির দিকে অঙ্গুলি হেলন করতে পারবে না।
: তাহলে আয়োজন নিয়েই কিছু বলুন।
: শুনতে ভালো লাগবে না। কষ্ট দিতে কষ্ট হয়। আমিতো জানি এরকম একটা আয়োজনে কতোটা পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে! এটা এক স্বপ্নপূরণের গল্প, সাফল্যের রঙিন পালক।
: তবুও। শুনতে চাই, শুধরে নেবার প্রত্যাশায়।
: শিল্পকলা একাডেমীর মঞ্চে কেন নয়! সেরকমই তো কথা ছিল।
: কেন? খারাপ হয়েছে বুঝি!
: তা, না। দর্শক ভেতরে যতোটা, বাইরের আড্ডায় ছিল তারচে বেশি। অবাক হয়েছি।
: আর......
: দিনটা বৃহস্পতিবার না হয়ে শুক্রবার হলে বেশি ভালো হতো। সপ্তাহের শেষ দিনটায় রাস্তায় ভীষণ ভিড়!
: শুক্রবারে অডিটোরিয়াম ফাঁকা ছিল না। আর…………
: কেউ একজন বললো আবৃত্তির মাঝে যে ছেলেটা গাইছিল তার গানের গলাটা দারুণ! অদ্ভুত গায়কিতে সুন্দর সব গানের নির্বাচন! কবিতা সন্ধ্যায় এসে গানের প্রশংসা শুনতে আমার ভালো লাগেনি। আমি চাইছিলাম কবিতার আবৃত্তি নিয়েই তারা কিছু বলুক! চাইছিলাম তারা শুধু তোমার কথাই বলুক।
: তারপর……
: একজন বললো কবিতার নির্বাচনে বৈচিত্র্য ছিল না, গতানুগতিক। দর্শকদের মনোজগৎ ছুঁয়ে একাত্ব করার যে ব্যাপার, সেটা ছিল না। এসব কিন্তু আমার কথা না………
: আর……
: একজন বললেন, আপনার কোন কবিতা……কথাটা শেষ করতে না দিয়েই বললাম, না। উনি বললেন, সেকি! আপনাদের তো দারুণ বোঝাপড়া! আমি বললাম, ওনার মতে আমি এখনো ঠিক কবি হতে পারিনি। যেদিন সত্যি সত্যিই কবি হবো সেদিন………
: কেউ এলো বোধহয়, কলিং বেল বাজছে। রাখি।
: ভালো থেকো।
