: হ্যালো।
: তাহলে তো আমার কথাই ঠিক ছিল……
: কেমন আছো?
: এড়িয়ে গেলেন যে! উত্তর দিন।
: তুমি কিছু জিজ্ঞেস করেছো কি?
: এরকম কেন করলেন?
: আসলেই বুঝতে পারছি না। তুমি কীসের কথা বলছো?
: এভাবে কবিতা পর কবিতায়, ফেসবুকের টাইমলাইনে, ইউটিউবে আমার অনুভূতি উম্মুক্ত করে দিলেন! এরকম কথা ছিল কী কবি! এটা কি বিশ্বাসঘাতকতা নয়!
: কবি’র জীবন তো মলাটবন্দি উপন্যাস নয়, কবিকে ভালোভাবে না জানলে………তাছাড়া কোথাও তো নাম উল্লেখ করিনি, কোথাও বলিনি গল্পটা আমাদের।
: নাম উল্লেখ না করলেও বলতে কিছু বাকী রাখেননি। আপনার সেই কাব্যগ্রন্থের ৬২ পৃষ্ঠায় যেমনটা বলেছেন। আমি কিন্তু জানতাম আপনি একদিন এটাই করবেন, সেজন্যই……
: এভাবে বলছো কেন! আমি তো আমাদের প্রেম মৃত্যুহীন করে রাখতে চেয়েছিলাম। কবিতায়, দু’লাইনের মাঝে যে রহস্য, অনুসন্ধানী পাঠক তা একদিন খুঁজে পাবে, যেভাবে তারা একদিন খুঁজে পেয়েছিল শোভনাকে, তারা জানবে একদিন আমরা ভালোবেসেছিলাম। তুমি তো জানোই, ‘If a poet falls in love with you, you can never die.’
: আজব তো! আমি কখনও তা চেয়েছি? বলেছিলাম আপনাকে?
: তা বলোনি। সেটা তো শোভনাও কখনো বলেনি মিলু ভাইকে, অথচ পাঠক ভালোবেসে তাকে মনেরেখেছে। কবির প্রেম এরকমই। অন্তঃসলিলা নির্ঝরিনীর মতো গোপনে বয়ে যায় এবং প্রবল জলোচ্ছ্বাসে দু’কূল ছাপানো ঢেউয়ের মতন আবেগে ভাসিয়ে নেয়।
: কিন্ত আমি তো ভাসতে চাইনি…………
: থাক না ওসব। সুন্দর মুহুর্তটা নষ্ট না করে বরং অন্যকিছু বলি। বলো তুমি কেমন আছো?
: এভাবে কত বার? কত জন!
: প্রতিটা প্রেমই প্রথম প্রেম। প্রতিটা অনুভূতিই ভালোবাসার প্রথম অনুভূতি, প্রথম যৌবনে চিলেকোঠার নির্জন দুপুরে সর্বস্ব হারানোর মতো। প্রেমিকার প্রতিটা চুম্বন আমাকে গর্বিত করে……
: আজব তো!
: কবিগুরু’র জীবনের দিকে তাকাও! তোমি’র প্রেম, ওকাম্পো কিংবা রানু! সেখানে তো ধরে রাখবার উচাটন ছিল না। প্রেম হবে পাখির ডানার মতো উম্মুক্ত! অর্গলহীন! আকাশের নীল বিস্তৃতিতে সূর্যকে আড়াল করে উড়বে, মেঘের ভাঁজে হারাবে কিন্ত দিনশেষে ফিরে আসবে আপন ঠিকানায়। প্রতিবার। পরিযায়ী পাখি যেমন পাখার চিহ্ন ধরে ফিরে আসে!
: কীযে সব ছাইপাস বলে এলোমেলো করে দেন! কেন যে ফোন করেছি সেটাই……
: এবার বলো তুমি কেমন আছো?
: ভালো নেই। আমি ভালো নেই।
