: হ্যালো।
: শুভ সকাল।
: কেমন আছেন কবি?
: তুমি! অবাক করলে।
: কখনো ফোন করবো না, তা তো বলিনি।
: খোঁজ নেয়া, সেটাও তো কখনো করোনি।
: থাক না ওসব। রাজেন্দ্রপুরে বৃষ্টি হচ্ছে। জানালার শার্সিটা সরাতেই বৃষ্টির ছাঁট এসে মুখটা ভিজিয়ে দিল। রেস্টুরেন্ট আত তীনের কথা মনেপড়ে? বনানী মাঠের কাছেই। এক মেঘলা বিকেলে এরকম ভিজেছিলাম। হঠাৎ মনেপড়লো, তাই ভাবলাম ফোন করি।
: বৃষ্টি হচ্ছে মিরপুরেও। রেমালের প্রভাব।
: রেমাল! সে কে?
: এবারের ঘুর্ণিঝড়ের নাম।
: অদ্ভুত তো!
: হুম। আরব সাগর, বঙ্গোপসাগর আর ভারত মহাসাগরের উপরে তৈরি ঘুর্ণিঝড়গুলোর নাম দেয় বারোটা দেশ। এর আগে আয়লা, আমফান, ফণী, ইয়াসের নামে ঘুর্ণিঝড় আমাদের দেশের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল। ওগুলোর নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ, বার্মা, পাকিস্তান। তবে এবারের নামটা দিয়েছে ওমান।
: বাহ্! দারুণ তো! কিন্ত শব্দটার মানে কি?
: রেমাল আরবী শব্দ। এর অর্থ বালি।
: কতো কিছু জানেন কবি!
: শুধু তোমাকেই জানতে পারলাম না। আজও খুঁজে পেলাম না মনের তল!
: আপনাকে ধন্যবাদ।
: কেন! তোমাকে জানতে না পারার কারণে!
: না। ওসব কিছু নয়। ২৭ তারিখের অনুষ্ঠানের জন্য আমার নাম রেফার করেছিলেন……
: কিন্ত, ওরা তো শুনলাম অন্য কাউকে দিয়ে আবৃত্তি করাচ্ছেন। যেটাকে বলে ব্যুরোক্রেসি।
: ওরকম হয়েই থাকে। সবারই তো কেউ না কেউ থাকেই……
: আমি কি তোমার তেমন কেউ! সেরকম কেউ একজন!
: আপনি আমার জন্য কষ্ট করেছেন। ধন্যবাদটা আপনার প্রাপ্য।
: প্রতিবারই এড়িয়ে যাচ্ছো। কেন এতো লুকোচুরি!
: লুকোচুরি নয়। এ আপনি বুঝবেন না।
: তুমি কত জায়গায় যাও! অনুষ্ঠান করো। সম্মাননা, পদক গ্রহণ করো। মাসখানেক আগে কলকাতাতেও গিয়েছিলে শুনলাম। সবই কানে আসে। অথচ তোমার সাফল্যে যে আমি এতোটা খুশি হই! আমাকে কখনো বলো না। তোমার কন্ঠে শুনতে পাই না তোমার সাফল্যের গান।
: কলকাতা গিয়েছিলাম, অল্প সময়ের জন্য। হঠাৎই।
: শিল্পকলাতে তোমার সংগঠনের অনুষ্ঠান করলে অথচ আমাকে বললেও না। অথচ দেখো, আমরা একদিন আলোচনা করে সংগঠনের লোগো ঠিক করেছিলাম। পরিচিত শিল্পীকে দিয়ে ডিজাইন করালাম। এমনকি ট্যাগ লাইনটা, আমিই দিলাম। অথচ...
: থাক না ওসব। সুযোগ পেয়ে লজ্জা দিচ্ছেন।
: খুব অভিমান হয় বুঝলে!
: আপনি চাইলে এককাপ কফি খেতে আসতে পারি।
: তাহলে ‘পেয়ালা’তে আসো।
: ওখানে! ওখানে কেন?
: যেখানে একদিন যতিচিহ্ন টেনেছিলে সেখান থেকেই না হয় শুরু হোক নতুন করে পথচলা!
