আবারো একই ভুল!
আবারও একইভাবে রমণীর কাছে ফিরে আসতে চাওয়া!
তবে ধিক্কার, ধিক্কার হে অটোফেজি আত্মাটা!
সময়টা এখন নয় ভালোবাসার!
শরীরে প্রেমিকার শরীরের ঘ্রাণ মেখে-
এখন যাবার কথা নয় থিয়েটার-সিনেপ্লেক্স-কফিশপে,
বুকক্যাফের ম্লান আলোয় বসে-
চামচের টুংটাং শোনার সময় এখন নয়,
অনুভূতির সবটা যখন বন্দি ক্লজেটের বৃদ্ধ কপাটে।
চিবুকের অরুণাভ বিভায় এখন হবেনা গাঢ় চুম্বন,
অন্তর্বাস ছুড়ে সঙ্গমবিমুখ নারীর মানভঞ্জনে
এখন হবে না কোন কবিতার লাইন,
বনসাই লিরিকে বাঁধা হবেনা নতুন কোন সুর।
প্রতিবন্ধী সময়টা এখনটা আন্দোলনের-অভিঘাতের
মিছিলের প্রতিবাদী রাজপথ হোক প্রেমিকের একমাত্র ঠিকানা।
চারদিকে যখন শোনা যায় শকুনের উল্লাস
বিষাক্ত নখরে হত্যা-ধর্ষণ-মাদক যখন নিত্যদিনের অনুষঙ্গ,
যখন চোখের সামনেই বিপন্ন যখন মানবতার উষ্ণীষ
বিচারহীনতার সংষ্কৃতি আর পেশীশক্তির দাপটে
যখন দিনেদুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি হয়ে যায়,
লোপাট হয়ে যায় রাষ্ট্র-সংসদ-সংবিধান,
ঘুণপোকার মতো ধ্বসে পড়ে মুক্তির সোপান,
আইনের ধারাগুলো ঝুরঝুর করে খসে পড়ে আদালত প্রাঙ্গনে
তখন থেমিসের চোখ থেকে পর্দাটা সরিয়ে দেয়া খুব জরুরী,
কেননা এবার শুধু প্রতিশোধের পালা, এবার শুধুই প্রতিঘাত।
আঘাতে আঘাতে জর্জরিত এই ভূপৃষ্ঠে-
রুদ্র বৈশাখের পর এবার নেমে আসুক বৃষ্টির অমিয় ধারা,
ঊষর প্রান্তরে এবার দেখা দিক ঘাসের নতুন ডগা।
এবার কুয়াশার-আঁধারের শেষে স্বেদে ও শোনিতে-
যদি নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হয় কাকজোসনা ভোর,
সংঘাত-ধর্ষণ-হিংস্রতা-রক্তের হোলিখেলা যায় থেমে,
ভেদাভেদ ভুলে তরুণেরা যদি গায় জীবনের জয়গান,
ফুলে ফুলে ভরে যায় স্মৃতিসৌধ-শহীদ মিনার-যৌবনের ক্যাম্পাস,
যদি তারুণ্যের উল্লাসে ভেসে যায় আইনের সাতান্ন ধারা,
তবেই আমাদের দেখা হবে জেনো-
আমাদের দেখা হবে জেনো দুগ্ধফেনানিভ জোছনার রাতে।
