আমাদের মাঝে যেটা ছিল সেটা আসলে প্রেম না,
সেটা হয়তো ছিল মুহূর্তের ভালোলাগা—
যা আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
আমাদের হয়নি ছুঁয়ে ছুঁয়ে পথচলা—
হয়নি স্পর্শবিনিময়, আমাদের-
আমাদের ভালোবাসাবাসি হয়নি।
আমরা কুমারী প্রেমেরআবেগে ভিজতে
বা ভেজাতেও পারিনি নিজেদের
যেভাবে শ্রাবণঘন দিনে গাভীন বরষার মেঘ—
আকাশের সমস্ত আকুলতা উপেক্ষা করে
ছুটে যায়, ছুঁয়ে রাখে পাহাড়ের চূড়ো
তার কোমল বুকের উষ্ণতা আর আবেগের সবটা দিয়ে।
তারপর গভীর ভালোবাসায় আর্দ্র হয়ে
বৃষ্টির রেণু হয়ে ঝরে পড়ে,
ভিজিয়ে দেয় লতা-পাতা-গুল্ম সবুজ উপত্যকা
ছুঁয়ে থেকে পাহাড়ের সবটা।
আমিও একদিন আকাশের সমস্ত আকুলতা নিয়ে
পাতাঝরা বিকেলে কড়া নেড়েছিলাম
তোমার দরজায় কড়া নেড়েছিলাম, কাছে ভিড়েছিলাম।
অথচ মেঘের মতো তোমার পুরোটা জুড়ে ছিল পাহাড়,
তোমার ছিল পাহাড়ের জন্য আকুলতা।
আমি পারিনি পাহাড়ের মতো তোমার মৌনব্রত ভাঙতে
আমাদের তাই ভালোবাসাবাসি হয়নি।
বৃষ্টি হয়ে, বৃষ্টির রেণু হয়ে
মেঘ আর পাহাড়চূড়ার সেই যে ছুঁয়ে থাকা
স্বকীয়া সম্পর্কে তারা আজও ছুঁয়ে থাকে, তুমিও তেমন।
চিলের ডানার প্রান্ত জানে না ভেতরের ওমটুকু,
তুমিও জানোনি আমার গভীরতা,
আমার কতটা জুড়ে তোমার ভিজে থাকা!
প্রিয়, আমি নিঃসীম শূন্যতার মাঝে—
একরাশ নীল হয়ে, আকাশ হয়েই রইলাম।
তোমার আর আমার মাঝে তাই কোনো গল্প নেই—
আমাদের নেই ভালোবাসাবাসি।
