মতিহারের সবুজ চত্বর আজ শূণ্য
কৃষ্ণচূড়ার ডালে জমাট নিস্তব্ধতা,
কাজলা-তালাইমারি-ভদ্রার আকাশে নিঃসঙ্গ চিল
এই বসন্তে ফুল ফোটেনি বলে তরুণীরা ফিরে গেছে,
প্যারিস রোডের ধূলো ফিরে গেছে বিরহের কাছে-
পদ্মার খাঁখাঁ বিরান প্রান্তে শুধু কয়েকটা শালিক আর
ছাদের কার্নিশে একটা কাক অনেকক্ষণ ডেকে যায়।
মঙ্গলবার এসে ফিরে গেছে ক্যালেন্ডারের পাতায়
মঙ্গল বারতা আসেনি কারোর,
ডাকপিওনের কাঁধে দুটো হলুদ প্রজাপতি উড়েছিল শুধু
আর একটা ঘাসফড়িঙ কারো অপেক্ষার কাছে,
ভালোবেসে যে যুবকেরা গেয়েছিল যৌবনের গান-
গিটারের ফ্রেটবোর্ডে ফিরে গেছে তারা
বাজেনি নতুন কোন সুর কিংবা বিষণ্ণ টুংটাং।
রেলষ্টেশনে শীতের রাতেরা জেগে থাকে
পৌরাণিক রমণীর দীর্ঘশ্বাস হয়ে,
কারো চুলে বাসুকির ফণা-শরীরের ঘ্রাণ-ঠোঁটের দ্যুতি
শেষ ট্রেনে ফিরে গেছে যেমন কুয়াশার চাদর,
শূণ্য প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘরাত জেগে থাকে-
একাকী আউটার সিগন্যাল-গুমটি ঘর-পাম্পহাউজ
আর জেগে থাকে একটা দুটো জোনাকির আলো।
অটোফেজি স্মৃতি যেন বিবাগী তবিল
মলিন ঘাসে-পথে-বিবর্ণ প্রান্তে পড়ে থাকে,
আবেগ বনসাই করে কেউ অরিগ্যামি খেলে
ফেরার চিহ্ন ভুলে যায়-ভুলে যায় চেনা প্রিয়মুখ,
স্ট্যালাকটাইট ভালোবাসা ঝুলে থাকে বাদুর যেমন-
অপেক্ষায় থাকে কফির শূণ্য পেয়ালা,
একটা ধূসর টেবিল আর ঘিরে থাকা কয়েকটা চেয়ার।
