সেপ্টেম্বর রেইনে এর আগেও অনেকে নেচেছিল-
বার্লিনের এক যুবক তুলেছিল সুর বৃষ্টির ছাঁটে,
গিটারের কর্ডে সে গেয়েছিল, ‘দেয়ালেরও কান আছে...’
আমি তাই দেয়ালের সাথে কথা বলি-
শোনাই রাতজাগা দীর্ঘরাতের গল্প,
সুপ্রভাত জানাই এবং
ঘুমোবার আগে একটা ছোট্ট বিদায় সম্ভাষণ, ‘শুভ রাত্রি’।
দেয়াল জড়, তবু অজড় কথাগুলো শোনে-
ঠোঁট নেই বলে উত্তর দিতে পারেনা, দেয়ালের ঠোঁট নেই।
অর্বিকুলারিস অরিস মাংসপেশির অভাবে
দেয়াল হাসে না,
গাছেরা কিন্ত হাসে, টোলও পড়ে।
দেয়ালের মতো গাছেরাও বোঝে-
কেঁপে উঠে জানান দেয়, জেগে আছি কবি,
জেরিকো শহরের সেই যুবকের মতো আমিও-
পশ্চিম দেয়ালে মনস্তাপের গল্প শোনাই।
কথা বলার গভীর অভিপ্রায়ে একদিন
বার্লিন শহরের দেয়ালটা ভেঙে ফেলা হলো,
সেদিন বন শহরের সোনালী চুলের এক তরুণী-
এই সেপ্টেম্বর রেইনে কথা বলবে বলে
শার্টের আস্তিনে কিছু টুকরো লুকিয়েছিল।
নিরাপত্তার অজুহাতে একদিন-
কিন শি হুয়াঙ যে দেয়াল গড়েছিল
তা আজ বিবর্ণ, অথচ সুদূর অতীতের কথা বলে,
বুকের পাঁজর থেকে খসে পড়া পলেস্তরা জানান দেয়,
বড় কষ্টে আছি কবি।
বাতাসের সাথে নুয়ে পড়ে গাছেরা বলে যায়,
সেপ্টেম্বর রেইনে কথা বলতে হলে
বার্লিনের সেই যুবকের মতো-
কারো কারো একটা দেয়াল খুব দরকার।
