‘পেয়ালা’, কফিশপ টার নাম,
ওখানেই একদিন আমাদের সম্পর্কের কবর খুঁড়েছিলে
আর আমি ধূসর প্যাপিরাসে লিখেছিলাম এপিটাফ,
‘সামান্য পরিচয়ে যে অসামান্যতার ছাপ নিয়ে গেলাম
তা ফিরিয়ে দেবার সাধ্য কখনো ছিল না’।
সেদিনই প্রথম জেনেছিলাম
তুমি গুছিয়ে মিথ্যে বলতে জানো,
প্রতারক ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে জেনেছিলাম
সত্যের অপলাপে যে প্রতিশ্রুতি, সেও আসলে একটা আর্ট!
সময়টা ছিল দুপুর-চারদিকে চেপে বসা শহুরে নির্জনতা,
তোমার পরনে শাড়ি, কি সুন্দর সেজেছিলে
টিভি স্টেশন থেকে সরাসরি এলে বুঝি-
তোমার পুরোটা জুড়ে কেবলই কর্মব্যস্ততা,
টেবিলের শূন্য কাপে তখনও জমাট নিঃসঙ্গতা।
আমরা ছিলাম মুখোমুখি চেয়ারে-
জানালার ওপাশে গাড়ির চাকার ব্যস্ততা,
কামাল আতাতুর্ক রোড, ঘড়ির ডায়াল কিংবা
কফিশপের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা হিজলের চোখ অপেক্ষায় ছিল।
আমিও অপেক্ষায় ছিলাম নতুন কিছু শুনবো বলে,
তোমার চোখের কার্নিশে তখনো অন্যমনস্ক দুপুর
শরীরে ক্লান্তির ছাপ, স্মৃতিগুলো আনমনে খুঁটছিলে,
মোবাইলে লোকেশন অফ করে দিলে-তারপর আবারও
ঘড়ির ডায়ালে দু’বার তাকিয়ে কিছু ভাবছিলে, কিছু ভাবছিলে কি?
নতুন কিছু শোনার অ্যাড্রিনালিন কৌতূহলে-
আমি সেদিন তোমার ঠোঁটের দিকে তাকিয়েছিলাম
পেলব কোমল ঠোঁট, যা মিথ্যে বলতে জানে-
যেখানে সামান্য কিছু কষ্ট জমা রেখেছিলাম।
