প্রথাসিদ্ধ ভালোবাসায় কখনো বিশ্বাস ছিলোনা তবু
তালগাছ টার মতো টানটান শরীর নিয়ে-
শুধু ঘাই মেরে যাও,
পিছনে ফেলে রাখো সময়ের বলিরেখা-জলের দাগ,
প্রিয়, দূরত্ব শুধু দূরত্বই বাড়ায় তবু-
কাছে আসার জন্য কখনো কখনো
আমাদের খানিকটা দূরত্বে সরে যেতে হয়।
নামতা মুছে যাক ধারাপাত থেকে-
সম্পর্কের ঐকিক নিয়ম, তাও মুছে যাক
শুধু চোখ জুরে থাকুক ঠোঁটের কোমল স্পর্শ,
থাকুক কিছু অপেক্ষার প্রহর-কিছু ভালোলাগা,
প্রিয়, অরুণাভ আভায় অনেকটা পথ হেঁটে-
অস্তগামী সূর্যের সাথে পথচলা কঠিন অথচ-
চোখ জানে মনের ঠিকানা-কীভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
আমাদের দৃষ্টিসীমায় কোন বাতিঘর ছিলোনা,
চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় অধর ছুঁতে চেয়েছিলাম অথচ
তুমি খুঁজে পেলে রমণের তাপ-নালন্দার লেলিহান শিখা,
প্রিয়, স্পর্শ মানে একটা নিষ্কলুষ স্বাক্ষর,
ঠোঁটের উষ্ণতার রকম বদলায় তবু-
চুমুর স্বাদ একইরকম, খসে পড়া বটের ঝুরির মতো
পুরাতন ভালোবাসাও একইরকম নোনতা।
স্তব্ধতার থিওরেম ধারণ করে বায়সের মতো
আকাশ ভালোবাসায় ভিজে একসা হয়
সমুদ্রও রঙ বদলায়,
রোদের ব্যারোমিটারে ঘনত্ব বাড়ে শুধু,
চোখ বদলায় তবু নোনাজল একইরকম,
দিগন্তের শূন্য রেখায় গাঙচিল মিলিয়ে গেলেও
ডানার শব্দের রেশ থেকে যায় জেনো।
অসংখ্য স্তাবক, স্তুতি আর নৈবেদ্যর ভিড়ে
করোটিতে মেদ জমেছে প্রচুর, প্রেমিকা হতে পারোনি,
সম্পর্কের সংজ্ঞাটাও বদলে ফেলেছো বলে-
দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার এলার্মের মতো
হৃদয়ে জলতরঙ্গ বেজেছে শুধু, ছুঁতে পারোনি,
যতোটা ছুলে একটা দুপুর লোপাট করে দেয়া যায়
বুকের পাঁজর চুরমার করে বলা যায়, ‘ভালোবাসি’।
