আমাদের অনেকদিন দেখা হয়না-
কথা হয়না,
আমাদের অনেকদিন জানা হয়নি আমরা কেমন আছি!
একই আকাশের নিচে আমাদের বসবাস-
অথচ
আমাদের কথা হয়না,
দেখা হয়না-
আমাদের হয়তো দেখা হতে নেই।
এখনও কি ৫৭/২ ঋষিকেস লেনের-
পুরোন অফিসটাতেই আছো!
সেই যে ন’টা-পাঁচটার চাকরি-
গলির মুখে হলদেটে-স্যাঁতস্যাঁতে বিল্ডিং আর
কার্নিশ বেয়ে বটের মূল মাটি ছুঁইছুঁই,
জানলার জীর্ণ চৌকাঠ চৈত্রের বাতাসে দোল খায়!
চাকরিটা ছেড়ে দেবার বাহানায়-
কতবার অবিনাশ বাবুর সাথে তর্ক জুরেছো!
সারাটাদিন ফাইলের স্তুপে নাক গুঁজে রাখা,
আর সন্ধ্যার মায়া শরীরে মেখে-
অজস্র মানুষের ভিড় ঠেলে ঘরে ফেরা,
তুমি বলতে বাঘের ডেরা।
বয়স বাড়ছে কিন্তু তোমার রাগটা যেন কমছে না!
মুহুর্তের খুনে-বিধ্বংসি রাগে পুরো তল্লাট কেঁপে ওঠে।
এতো রাগ কেন রওনক?
কীসে এতো অভিমান!
তোমার সমস্ত কষ্ট-অভিমান মুছে দেবার যে অভিলাষে
কাছে ভিড়েছিলাম।
সেই আমাকেই তো দূরে সরিয়ে দিলে।
তোমার জামার বোতাম ছুটে গেলে-
কে লাগিয়ে দেয়!
নাকি ওভাবেই.........
যা ভুলো মন তোমার!
একদিন জামার বোতাম উল্টো করে লাগিয়ে-
ওভাবেই অফিসে ছুটে গিয়েছিলে,
টাইএর নটটাও তো ঠিকমতো বাঁধতে পারোনা!
কতবার বলেছি, ‘সময় থাকতে শিখে নাও-
পরে কিন্তু ডাকলেও কাছে পাবেনা’।
তুমি হেসেই উড়িয়ে দিলে!
কিন্তু ঈশ্বর যেন তাই সত্যি ভেবে নিলেন!
আজ আমরা এক জীবনের দূরত্বে।
অনেকদিন তোমার চোখের গভীরে তাকিয়ে-
চায়ের কাপে ঠোঁট ছোঁয়ানো হয়না,
অনেকদিন চায়ের কাপে-
বেলা বিস্কুট চুবিয়ে খাওয়া হয়না।
রমিজ মামা’র দোকানটা এখনও সেরকমই আছে,
গানের স্কুলে যাওয়ার পথে দেখা হয়।
পুচকে ছেলেটা, যার নাম দিয়েছিলে নিউটন-
এখনও সেখানেই আছে,
একদিন জোর করে বসিয়ে এক কাপ চা খাওয়ালো।
কিন্তু আগের সেই স্বাদটা আর যেন পেলাম না!
কতদিন ফেরার পথে-
ওখানে বসে ফুচকা-চটপটি খেয়েছি!
কতবার ঝগড়াও করেছি অল্প-বিস্তর!
শুরুটা তুমিই করতে-
অথচ প্রতিবার আমাকেই হার মানতে হতো,
জীবনটা এরকম কেন?
একটা মানুষ কেন এতোটা অধিকার করে থাকে!
