হয়তো তোমার কাছে-
কিংবা এই সমাজের চোখে অপরাধ করেছি,
ঘোরতর অপরাধ! কারণ আমি-
একটু একটু করে ইনফার্নোতে তলিয়ে যাওয়ার মতো
তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
অথচ আমি জানি, তুমি চাইলেই আমি হয়ে যেতে পারি-
শহরের পাঁচিলে-ধূসর দেয়ালে সেঁটে থাকা পোস্টার,
আমি হয়ে যেতে পারি ল্যাম্পপোস্টে ঝুলে থাকা ঘুড়ি।
আমার হতে পারে মৃত্যুদণ্ড লোরকার মতো-
কিংবা আমাকেও হেমলক পানে বাধ্য করা হতে পারে,
ব্রুনোর মতো ইনকুইজিশন-
কিংবা যীশুর মতো করা হতে পারে ক্রুশবিদ্ধ,
শুধুমাত্র তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে প্রিয়তমা!
তোমার অঙ্গুলি হেলনে আমি হয়ে যেতে পারি-
ডাকবাক্সে অযত্নে পড়ে থাকা খাম কিংবা
ভাগাড়ে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ লাশ, বীভৎস ক্ষত-বিক্ষত,
অথচ তখনও আমার চোখের মণিতে জমাটবদ্ধ তুমি!
তোমার স্মৃতি চোখে মেখেই আমি মরে যেতে পারি।
তুমি চাইলেই আমি চৈত্রের ভর দুপুরে-
হয়ে যেতে পারি নিখোঁজ শালিকের করুন আহাজারি,
দৈনিক পত্রিকার ভেতরের পাতায় ছাপা হবেনা সে সংবাদ।
তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে এমনকি-
অস্তিত্ব মুছে যেতে পারে এনআইডি’র ডাটাবেজ থেকেও,
আমি স্রেফ মিলিয়ে যেতে পারি হাওয়ায়!
তুমি চাইলেই আমার হৃদপিন্ড বিদীর্ণ করে দিতে পারো-
ছুরির তীক্ষ্ণ ফলায় কিংবা নখের দুর্বৃত্ত আঁচড়ে,
হাসতে হাসতে-
তোমার চোখের ইশারায় আমি হয়ে যেতে পারি
না ফোঁটা গোলাপ, কান্নার শুকনো দাগ কিংবা
হেমন্তর ঝরাপাতার মতো মিশে যেতে পারি-
সবুজ ঘাসের বুকে।
তুমি চাইলেই তোমার ছাদের কার্নিশ থেকে-
আলতো ছোঁয়ায় ফেলে দিতে পারো,
অথচ আমার মনে হবে ও তুমি নও, তুমি হতে পারোনা!
হয়তো আমি নিজেই পা পিছলে পড়ে গেছি,
আমি তখনও ইকারুসের মতো ডানা মেলে শূণ্যে ভাসতে ভাসতে
তোমার দিকে নির্ভারে তাকিয়ে থাকতে পারি,
কেননা আমার দু’চোখ তখনও ভালোবাসায় আর্দ্র।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছি প্রিয়তমা-
তোমাকে সত্যিই ভালোবেসেছি।
