তুমি চলে যাবার পর কতো কি যে ঘটে গেলো-
তোমাকে বলা হলো না,
দক্ষিণা বারান্দার টবে একটা লেবুর চারা লাগিয়েছিলে
ওটা শাখায়-পাতায় এখন বেশ বাড়ন্ত
এবারই প্রথম থরেবিথরে সাদাসাদা ফুল ফুটেছে
ফল ধরবে বলে কি অদ্ভুত তার ঘ্রাণ!
জানালার শার্সিটা টেনে দিয়ে বৃষ্টির ছাঁটের সাথে
আমি লেবু ফুলের ঘ্রাণ খুঁজে ফিরি।
আমার কাছে এখন লেবু ফুলের ঘ্রাণের সাথে-
তোমার শরীরের পৌরাণিক ঘ্রাণ মিলেমিশে একাকার!
তোমার লাগানো তুলসী-মরিচের চারাগুলো-
স্পর্শ অভিমানে অথবা পানির অভাবে মরে গেছে,
খুব চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু টেকাতে পারিনি।
একদিন পুরোন আসবাবপত্র গোছাতে যেয়ে দেখি
লেবু গাছটাতে একজোড়া টুনটুনি বাসা বেঁধেছে,
ক’দিন পর নীলচে সাদা ডিম-ছানাও হলো-
তারপর একদিন দেখি নেই।
পাখিরাও এভাবে হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অতলে-
গল্পটা তোমাকে বলা হলো না।
২২০০ বর্গফুটের দোতলা ফ্ল্যাটের
সবখানে তোমার স্পর্শ ফসিল হয়ে আছে-
সময়কে ধারণ করে আছে মুক্তির অপেক্ষায়।
পাচক ছেলেটাকে বিদেয় দিয়েছি
শুধুমাত্র একজন মানুষের জন্য ও বড় বাহুল্য,
গ্যাসের চুলোয় আলু সেদ্ধ আর দু’মুঠো ভাতের জন্য
বেশি কিছু লাগেনা।
ক্রমাগত ঢপের অভিযোগে নোটিশ এসেছে
চাকরিটা বোধহয় আর থাকছে না!
তুমি চলে যাবার পর কতো কি যে ঘটে গেলো!
কত কিছু ঘটে, সময় ফুরিয়ে যায় তবু-
কথাগুলো তোমাকে বলার আগ্রহ ফুরোয় না।
শীত-গ্রীষ্মের প্রতি শুক্রবার সকালে যে বৃদ্ধ লোকটা
ক্র্যাচে ভর দিয়ে তোমার কাছে আসতো-
তুমি চলে যাবার পরেও কয়েকবার এসেছে
তোমার কথা জিজ্ঞেস করেছে, কেঁদেছেও অনেক,
কোন এক শুক্রবারের পর থেকে সে আর আসেনি।
এভাবে তোমার সাথে জড়িয়ে থাকা সবকিছু
আমার জীবন থেকে ক্রমাগত হারিয়ে যায়,
ধরে রাখতে পারিনি তোমাকেও!
সামনের ফ্ল্যাটে একটা মেয়ে-
অনেকরাত অবধি জেগে থাকতো-
মোবাইল ফোন কানে পায়চারী করতো,
তার কথার ফুলঝুরি ইথারে ভেসে আসতো,
আমি সিগারেটের আগুন চোখে তাকিয়ে থাকতাম।
রোজ ভোরে তার গলা সাধার সুরে আমার ঘুম ভাঙতো
আমার ঘুম ভাঙানিয়া পাখি একদিন গলা সাধেনি-
একদিন ভোরে আমার ঘুম ভাঙেনি।
রাতেও দেখেছি তার জানালায় জমাট অন্ধকার,
পরে শুনি সে চলে গেছে।
প্রতিদিন এই শহরে এভাবে কতশত মুখ হারিয়ে যায়
মে ফ্লাই-এর মতো প্রতিদিন কত প্রেমের মৃত্যু ঘটে-
কেউ বলতে পারে না।
তুমি চলে যাবার পর কতো কি ঘটে গেলো
কত কিছু ঘটে যায়-
তোমাকে বলা হলো না।
