এটা কীরকম চলে যাওয়া!
যেখানে ফিরে তাকাবার আকুতি নেই!
নেই পাথর চাপা দীর্ঘশ্বাস!
যদি বন্ধন ছিঁড়ে যাবার যন্ত্রণা না থাকে
তবে ঘটা করে কেন এতো আয়োজন!
চলে গেলেই কি সব শেষ হয়ে যায়-
কিছুই কি থাকে না অবশিষ্ট!
স্মৃতির কোলাজ-টুকরো টুকরো কথা-
হাতের আঙুল ছুঁয়ে পাশাপাশি পথচলা
সব কি করে এক লহমায় শেষ!
সামান্য একটা কথা-উচ্চারিত কিছু শব্দ
সেটা কি জীবনের থেকেও বড়!
মুহূর্তের বিবমিষাতেই কি সব বিলীন!
ঢলে পড়া অভিমান-রঙচটা অভিযোগ-
সেটাই যদি সব! অনুভূতি তাহলে কি?
বিন্দু বিন্দু ঘাম-সময়ের খাম, ঘড়ির স্থির চোখ
পুরোন থালাবাটি-তোবড়ানো পাতিল, চারকোল আবেগ
দেয়ালে সাঁটানো ছবি-মলিন সেজবাতি-জানালার গরাদ
জীর্ণ কাঠের চেয়ার, ধূসর পায়ের ছাপ
এসব তাহলে কার কথা বলে!
পারবে চলে যেতে জীবনের স্পর্শ থেকে!
জমাটবদ্ধ সুখ, কাঁথার জমিন-লুকোনো উষ্ণতা
নরম রোদের দুপুর-ব্যস্ত উলের কাঁটা-আচারের বয়াম
আধবোনা সোয়েটার-আধফোটা স্বপ্ন, মশারির মৌরসি
এসব তো কিছু সৃষ্টির কথা বলে নাকি!
জানিনা এ কেমন চলে যাওয়া-
একি তবে সাইমুম! ঝড়ের পূর্বাভাস!
নাকি নির্মোক ছেড়ে মুক্ত বাতাসের উম্মাদনা!
বিরতির শেষে শঙ্খলাগা ঘোরে
ফিরে আসবার অদম্য নিগূঢ় বাসনা!
অবেলায় আচম্বিতে যে বানপ্রস্থ-
এ তবে কি? বিদায়! নাকি প্রস্থান!!!
