সম্পর্কটা ওভাবে ভেঙে যাবার পর-
তোমাদের ওদিকটাতে আর যাওয়া হয়নি,
একসময় গলির মুখে কাঠের দোতলা বারান্দা
জানালার গরাদ-চৌকাঠ-আধ বোজা শার্শি
আলো করে দাঁড়িয়ে থাকতে,
চিলেকোঠার নির্জন দুপুর-বিকেলের নরম আলো
সন্ধ্যার মায়া তুমিময় করে রাখা-
স্মৃতিতে ফিরে তাকাবার সাহস হয়নি।
শেষ যেদিন দেখা হয়েছিলো-
সেদিনের মতো স্কুলের লাল ক্ষয়িষ্ণু ইমারত
প্রশস্ত বারান্দায় ঝরাপাতার চাদরে
আর হাঁটা হয়নি,
পুরু স্তম্ভের আড়ালে যে তুমি একদিন
নিঃশব্দ ছায়ার মতো জড়িয়ে ধরেছিলে,
প্রবল আবেগে দিয়েছিলে কুমারী চুম্বন-
আধফোটা গোলাপের কষ্ট বুদ্বুদ বুকে যাওয়া হয়নি।
একমাথা চুল, জীর্ণ জিন্স আর পুরোনো গিটার হাতে-
স্কুলের ক্ষয়িষ্ণু ইমারত, দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ আর
শতবর্ষী বটগাছটার দিকে আমি আজো তাকিয়ে থাকি,
তাকিয়ে থাকি ফেলে আসা পদচিহ্নের দিকে-
আমার দৃষ্টি মেঝেতে পড়ে থাকা পাতার মর্মর ছুঁয়ে যায়,
ধুসর পলেস্তরার মতো শরীরের পাঁচিল থেকে-
খসে পড়ে তোমাকে ছুঁয়ে থাকার অনুভূতি
নাকি তোমার জটবাঁধা স্মৃতি! আজো বোঝা হয়নি।
অর্থ আর আভিজাত্যের কোলাজে-
বরুনা’রা আজীবন সুখী ইট-কাঠের দালানে,
আমার পৃথিবী আড়াল করে যাকে জোছনায় ভেজালে,
সেকি চুলের নরম রেশম গোছা সরিয়ে-
ঘাড়ের ধবল ত্বকে নিঃশ্বাস মেখে দেয়!
পারে! আমার মতো আদর করতে!
নাকি কর্পোরেট জীবনে সাইন থিটা কস থিটার মতো-
ভালোবাসার কোমল স্পর্শ অব্যবহৃত সূত্রে থেমে গেছে!
