প্রতিসরণের সূত্র মেনে
সম্ভাবনাগুলো প্রতি মুহূর্তে সরে যায়,
ছোটছোট অভিযোগ-উপেক্ষা-অনুযোগ
আমাদের পিছিয়ে দেয়,
মাহেন্দ্রক্ষণটি থেকে আমরা ক্রমশঃ পিছিয়ে যাই-
পিছিয়ে যাই টুকরো টুকরো অবহেলায়।
ঠোঁট আর চিবুকের ছান্দসিক দূরত্বে-
কবর সমান নিস্তব্ধতায় যে অভিমান খেলা করে,
জানালার চৌকাঠে জমাটবদ্ধ তা-
কখনো শ্রাবণ ধারা, আবার কখনওবা
বিভেদের প্রাচীর তুলে দেয়,
কখনো একটা বার্লিন প্রাচীর ভাঙ্গা যায়-
কিন্তু অভিমানের প্রাচীর! সেটা হয়না।
পারফিউমের বেইজ নোটের মতো-
রাতজাগা বালিশে লেগে থাকা স্পর্শ
পৌষের ওম্-শরীরের ঘ্রাণ একসময় হারিয়ে যায়,
পরিচিত মুখ-চেনা পরিবৃত্ত-নিকটজন তবু
হকারের হাঁক-ক্যালেন্ডারের ছবি কিংবা
ঘড়ির এলার্ম কখনো জানান দেয় বেঁচে আছি,
সময়ে সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলে যায়।
মুঠোফোনে ঘুম ভাঙানিয়া ‘শুভ সকাল’ কিংবা
কফিনে আবদ্ধ রাতের অপেক্ষায় কখনো-
‘শুভরাত্রি’ বার্তাটা নিতান্তই দায়সারা, এতোটাই যে-
লাপিস লাজুলি না, তা বিকোয় উচ্ছিষ্টের দামে!
সিগারেটের টুকরোটার মতো ছুড়ে দেয়া
ইমিটেশন হাসি যেন বলে, ‘এই নিয়ে সন্তুষ্ট থেকো’।
শুধু সবুজ ঘাসের বন-রাতজাগা তারা জানে-
নীলের প্রান্তে দিকভ্রান্ত ঘুড়ির যন্ত্রণার কথা,
জোনাকির বুকে ওমের কথা, ডাহুকের চোখ জানে-
জলো সম্পর্কে কোন প্রত্যাশা থাকে না।
