এ আমার বনসাই জীবন-
বসুদা’র লেটার প্রেসে কম্পোজিটরের চাকুরী,
সারাটা দিন সীসের তৈরি অক্ষরগুলো সাজাতে সাজাতে-
সূর্যটা কখন যে আকাশে মিলিয়ে যায় বুঝতেও পারিনা!
অফসেট প্রেসের যুগে কাজও তেমন জোটেনা
তবুও সকাল-সন্ধ্যে প্রেসের ঘুণেধরা পৌরাণিক জানালার পাশে
ম্যারম্যারে আলোয় বর্ণ সাজাই-বাক্য বানাই, আর এভাবে-
দু’চারটে পোষ্টার-লিফলেট কিংবা নোটবুক ছাপানোর বিনিময়ে
মাসের শেষে মাহিনা বলতে যেটুকু মেলে
তাতেই একটা অভুক্ত শরীর আর একটা প্রাণীর বেশ চলে যায়।
জীবন যুদ্ধে পরাজিত একটা মানুষের জন্য আর কতটুকুইবা লাগে!
সংসার বলতে তো আমি, আমার ছায়া আর ভুলু নামের কুকুরটা!
যেদিন রাতের শিফটে ছাপাখানার ডিউটি পড়ে সেদিন ঘুমচোখে,
কিংবা কখনো একান্ত আপন সুরে-
‘ফিস্ট ফুল অফ ডলার’ সিনেমার বিখ্যাত শিস্ ভাঁজতে ভাঁজতে
আর, সারা গায়ে কালি মেখে ভুলু’র পিছু নিয়ে ঘরে ফেরা-
এই তো আনন্দ! এ আমার নিত্যদিনের অভ্যেসে দাড়িয়ে গেছে।
আমার ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় আর পান্তা আনতে......
রোজ রাতে তেলাপোকা আর ছুঁচো যুদ্ধে নামে,
সেতো আমারই বিছানায়! আমার ঘরের চৌকাঠে-
শিকারের অভাবে জাল বুনে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে
মাকড়সাগুলো নিজেরাই কখন যে শিকার হয়ে যায় তক্ষকের চোখে-
বুঝতেও পারে না।
আমার ঘরের মাঝে এতো দারিদ্র্য! দারিদ্র্য আমার ভালোই লাগে!
ইতি, ভাড়ার টাকা জোগাতে না পেরে
সেই ছোট ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছি পুরনো ঠিকানায়,
সেই যে আমার ৯৬ বর্গফুটের আটপৌরে ঘরটাতে!
