আমি এখনো স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের গলিটায় থাকি,
আমার এক চিলতে উঠোন-
টিনের দোচালা ঘর আর লাগোয়া বারান্দায়
সজনে পাতার আড়ালে চৈত্রের ছায়া খেলা করে।
আমার ঘরে বাঁশের বেড়ার ফাঁক গ’লে
পৌষে শুকনো বাতাস আর শ্রাবণে-
বৃষ্টির ছাঁটের সাথে বেলি ফুলের ঘ্রাণ ঘুরে বেড়ায়!
আমার এ্যাশট্রেতে পোড়া তামাকের গন্ধের সাথে
বেলিফুলের ঘ্রাণের কি অদ্ভুত মিশেল!
আর ঘরের পেছনে যে বাঁশঝাড় দেখেছিলি-
সেখানে ঘোর অমাবস্যার রাতে হাজারো জোনাকি পোকা
বুকের ভেতরে একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে কাকে যেন খুঁজে বেড়ায়!
ইতি, জোনাকির বুকের গভীরের যে দহন-
তার দগদগে যে অনুভূতি!
তা কি আমার চেয়েও বেশী!
তার মস্তিষ্কের ভেতরে যন্ত্রণার তীব্রতা কি আমার চেয়েও বেশী!
ভেবে দেখ, তোকে না পাবার লক্ষ কোটি যন্ত্রণা
প্রতিনিয়ত কুরে কুরে খায় আমাকে,
আর বুকের ভেতরের ক্ষতগুলো এখন ঘা হয়ে গ্যাছে!
আমি সে গভীরের দহন, যন্ত্রণাগুলোকে ভুলে থাকতে-
তোর সাথে রোদমাখা স্মৃতিগুলোকে ভুলে থাকতে-
এখনো গলির মুখে রকের আড্ডায় মেতে থাকি আর
মাঝ রাতে নিজের ছায়াকে সঙ্গী করে
A Fistful of Dollars শিস্ দিতে দিতে ঘরে ফিরি।
আমি এখনো সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে চীৎকার করে গান গাই।
আমি জানি আমার এ স্বভাবটা তোর কতোটা অপছন্দের,
কতবার বকেছিস কিন্তু শোধরাতে পারিসনি মাইরি!
আমার অবস্থা আসলে এখন
দুবলার চরে ছুটে বেড়ানো বুনোমোষের মতো!
আমাকে নিষেধ করার জন্য আর কেউ রইলোনা রে!
আমি জানি, আমি জানি আমার এ বাউন্ডুলে স্বভাবটাই-
আমার জন্য কতোটা অভিশাপ বয়ে এনেছে!
আমি নিজেকে এখন ভদ্র সমাজের উপযুক্ত করার চেষ্টা করছি
তাই আর নিরুদ্দেশ হইনা।
রোজ রাতে নিয়ম করে ঠিকি ঘরে ফিরি, যদিও-
দরজায় ঝুলে থাকা তালায় চাবিটা ঘোরাতে ঘোরাতে
আমি আজ বড্ড ক্লান্ত, তবুও ফিরি
শূন্য বিছানায় পড়ে থাকা বালিশ আর মশারীটার জন্য।
ঘরের খুঁটিতে ঝুলে থাকা ঘড়ি আর টিকটিকিটা
রোজ রাতে জেগে থাকে আমার অপেক্ষায়,
আর আমি ডায়েরীর পাতায় তোকে হারানোর সুখ খুঁজে পেতে-
ফ্রেমে বাঁধানো পুরু লেন্সের চশমাকে জীবনের সঙ্গী করে নিয়েছি।
আমি এখন রাত জেগে ভেজা লেন্সের ভেতর দিয়ে জোছনা দেখি,
বৃষ্টিতে ভিজি আর আমাদের স্মৃতিমাখা জায়গাগুলোতে-
কুকুরের মতো তোর শরীরের ঘ্রাণ খুঁজে ফিরি!
