কোন এক স্বপ্নভুক জোছনার রাতে আমি নিরুদ্দেশ হয়েছিলাম,
ফিরে দেখি তুই নেই, তোকে খুঁজে পাইনি
কি এক শূন্যতায় আমার চারদিকে তখন কবর সমান নিস্তব্ধতা।
পাগল দশায় তন্ন তন্ন করে তোকে খুঁজেছি,
খুঁজেছি এ শহরের অলি-গলি, জল-কাদায়,
অবশেষে-
তোকে খুঁজে পেয়েছি ঠিকি,
কিন্তু ওভাবে খুঁজে পেতে চাইনি বিশ্বাস কর!
আমার বাগান থেকে হারিয়ে গিয়ে তুই এখন অন্যের ফুলদানীতে,
অন্যের গোলাপ হয়ে শোভা বাড়াতে ব্যস্ত।
যে শোভা শুধু দূর থেকেই দেখা যায়-
ছোঁয়া যায়না মোটে, এ আমি বেশ বুঝি,
জীবনের দামে আমি বুঝে নিয়েছি-
অন্যের ফুলদানীতে গোলাপের মূল্য কতো!
যে গোলাপ প্রতিদিনের দস্যিপনার সঙ্গী হয়ে-
আমার বুক পকেটে শোভা পেত আমি তার মূল্য বুঝিনি,
আমার বাউন্ডুলে মন বোঝেনি-
কি করে গোলাপের যত্ন নিতে হয়, অথচ এখন-
এক মুহুর্ত, শুধু এক মুহুর্ত দেখার আশায়-
বিয়েবাড়ির গেটে অপেক্ষায় থাকা বুভুক্ষু কুকুরের মতো-
তোর ঘরের জানালায় আমি তাকিয়ে থাকি।
বিশ্বাস কর আমি অপলক তাকিয়ে থাকি-
যদি কখনো জানালার শার্সিটা টেনে দিতে আসিস শুধু সে অপেক্ষায়।
বোশেখের প্রখর রোদে পুড়ে ক্ষয়িষ্ণু চোখে তাকিয়ে থাকি-
দোতলায় তোর ঘরের ঐ বেলকনিটার দিকে,
যদি কখনো তোয়ালে হাতে
দিগন্ত আঁধার করা চুল শুকোতে আসিস শুধু সে অপেক্ষায়।
জোছনার রাতে তোর বাড়ির সামনের সবুজ মাঠে আমি শুয়ে থাকি
একই আকাশের নীচে শুয়ে আছি শুধু এই অনুভূতিটুকু পাবার আশায়,
হেমন্তের ফিনফিনে বাতাস তোকে ছুঁয়ে এসে আমাকে ছোঁবে
শুধুমাত্র এই আশায়,
ধূমকেতুর মতো এক পলকের জন্য তোর দেখা মিলবে-
শুধুমাত্র এই অনন্য সুখটুকুর আশায়।
তুই একে কি বলবি! বন্য! নাকি পাগল দশা!
অথচ আমিতো পাগল হয়েই আছি-
ছোটবেলার এক কাল বোশেখের রাতে আম কুড়নোর মুহুর্ত থেকে।
ইতি, আমি আর নিরুদ্দেশ হইনা রে!
আজন্মের পাগলামিও গেছে থেমে
আগের সেই ভবঘুরে জীবন আর দস্যিপনাও এখন আর নেই,
বাবা-মা’র চোখে আমি এখন কেবলি এক শান্ত সুবোধ ছেলে-
আর আমার চোখে তুই!
আমার চোখে তুই অন্যের ড্রয়িং রুমে সাজানো গোলাপ!
