আমাদের দেখা হয়না, কতোটা মাস-বছর
ঝকঝকে কাঁচের শহরের কেউ জানে না
জানে শুধু গলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্প পোস্ট
শিরীষ গাছের সারি,
তারা জানে কি করে পড়ন্ত বিকেলের ছায়া-
এক পা দু পা করে মাড়িয়ে আমরা এগিয়ে যেতাম
পিছনে পড়ে থাকতো গল্পের ফুলঝুড়ি।
পার্কের বেঞ্চটাতে বসা হয়নি কতোদিন
সেখানে হয়তো ধুলোর চাদরে-
সংসার পেতেছে নতুন কোন মুখ,
বাদাম বিক্রেতা ছেলেটা হয়তো
আজো আমাদের অপেক্ষায় থাকে-
হয়তো নতুন কোন গল্প বুনে বসে থাকে
তার জীবনের গল্প শোনা হয়না অনেকদিন।
তোমার পাড়ার গলি হয়তো এখন ভরে থাকে
অন্য কোন জুটির পদচারণায়-
আমাদের পায়ের মাপে তারা হেঁটে যায়
নিকোটিনের ঘ্রাণ-ভস্ম মেখে তারাও বচসা করে,
ফাগুনের ডোপামিন ভুরভুর দিনে
তোমার বাড়ির ছাদে আজো সন্ধ্যে নামে
হয়তো অন্য কারো প্রত্যাশায়।
সেই কফি শপটাতে আর যাওয়া হয়নি
হয়তো আর কখনো যাওয়া হবেনা-
বেরোবার পথ আগলে রাখা লোকটাও
হাসিমুখে আর বলবেনা, আবার আসবেন,
আলো-আঁধারির চেয়ার-টেবিল, বসার প্রিয় কোণটা
হয়তো দখল করেছে আজ নতুন কোন জুটি
যেখানে একদিন আমরাও ছিলাম।
টেবিলের ফুলদানী-টিসুবক্স-মেনু কার্ড স্বাক্ষী
আমাদের আবেগঘন মুহুর্তের, আমাদের স্পর্শের,
ঝাঁকড়া চুলের যে ছেলেটা খাবারের অর্ডার নিতো
হয়তো আজো সে অপেক্ষা করে প্রতিটা ছুটির দিনে,
সে হয়তো জানবেও না, সময়ের হাত ধরে-
আমরা এখন বিপরীত মেরুর যাত্রী
আমাদের আর দেখা হবে না, আমাদের দেখা হতে নেই।
