তোমার ওই হাসিমুখ আমাকে দেখিও না,
ধূধূ পথ বালিয়াড়ির শেষে এক আঁজলা জলের মতো
পরম আরাধ্য ছিল যে হাসি-
এই নষ্ট শহরের সরীসৃপ মানুষদের সামনে বহু ব্যবহারে
তাতে আজ গ্যাংগ্রিন ধরেছে।
ফুটপাতের দোকানে ঝুলিয়ে রাখা লাইটারের মতো বহু ব্যবহৃত ওই হাসি
দু’চোখে শুধু জ্বালা ধরায়, তাতে অমৃতের সন্ধান মেলেনা।
তোমার হাসি তার রঙ-রস-রূপ সব হারিয়ে-
আজ বেনিয়াদের বেসাতি হয়ে গেছে, বিশ্বাস করো!
ওই হাসি আমাকে দেখিওনা আর।
পারলে আমার জন্য জমা রেখো অন্যকোন অনুভূতি-
পরিচিত জন বন্ধু-বান্ধবদের হাসি ঠাট্টার আড়ালে
অন্তঃসলিলা নির্ঝরিণীর মতো চাপা কোন মাচুপিচু বিস্ময়
আমার জন্য রেখো, তবু হাসিমুখ দেখিও না।
যে লাভার উদগিরণে পম্পেই নগরী তলিয়ে গেলো
তার চেয়েও প্রবল জ্বালা নিয়ে তোমার ফরমায়েশি হাসি
এনজাইনা হয়ে আমার ভালোবাসা চেপে ধরেছে, তাই-
আমার জন্য লুকিয়ে রেখো অন্য একটা কিছু।
গ্রহচারীর আকাশে বিশাল যে উদারতা
তোমার সে জগতে ঘৃণার অস্তিত্ব কতখানি তাওতো অজানা নয়,
জহুরীর পাত্রে অযতনে পড়ে থাকা রত্নরাশির মতো-
তোমার সে আধার থেকে কিছুটা ঘৃণা দিও, ভালোবাসা দিওনা।
