‘ধুরো মিয়া আপনি কিরকম মানুষ!
পাঁচদিন থাইক্যা ঘরের বাইরে আসেননা!’
প্রথমবার রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যাবার সময়-
সাদা পোষাকের লোকগুলো ঠিক এ কথাগুলোই বলেছিলো।
দ্বিতীয়বার যখন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়-
তার পড়নে ছিলো নীল জিন্স আর হাফ হাতা শার্ট।
‘চিন্তার কিছু নেই-
কিছুক্ষণ পরেই চলে আসবেন’, তারা বলেছিলো।
লিপা জানলার পর্দা সরিয়ে তাকিয়েছিলেন-
সাদা মাইক্রোবাসটার দিকে,
রাস্তার মাথায় ডানের বাঁকটার খাঁখাঁ শূণ্যতা পর্যন্ত।
ঐই শেষ দেখা-
তারা! নাকি রাষ্ট্র! তারা কেউই আসলে কথা রাখেনি!
কেননা লোকটা ফেরত এসেছিলেন ২৭৭ দিন পর,
কয়েদী নাম্বার ৯২৭/২০২০ অন্য পরিচয়ে এসেছিলেন
সাদা কাফনের আড়ালে লাশ হয়ে।
নির্বাক হওয়ার আগে লিপা বলেছিলেন, ‘এটা কি হলো!’
প্রতিদিন এভাবে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় লাশের সারি
নিখোঁজের বিষন্ন মিছিল!
আসলেই এটা কি হলো! কোন সভ্য রাষ্ট্রে এটা কিভাবে হয়!
আমাদের চোখ অপেক্ষায় থাকে পরবর্তী লোকটার!
আমরা অপেক্ষায় থাকি আরেকজন লোরকার।
এমনকি এই যে আমি এখন যে লিখছি!
আমিও লোরকা হয়ে যেতে পারি মাইরি!
হতে পারি দেয়ালে সাঁটানো পোস্টার কিংবা
কারো প্রতিবাদের প্রোফাইল পিকচার,
আমি নতুন কোন ফ্রাংকোর হাতে নিখোঁজ হতে পারি-
কোন এক উনিশে আগস্টে।
আমার নিখোঁজ সংবাদে হয়তো ছেয়ে যাবে ফেসবুক-
মাঝরাতের টক শো শেষে পকেটের টুংটাং খুচরো,
প্রতিবাদের মিছিল, সংঘাত কিংবা বিক্ষোভে ফেটে পড়া,
মানবিক পুলিশের লাঠিচার্জ এবং নতুন কিছু মামলা।
অমানিশার নিঃসীম আঁধারে তলিয়ে যাওয়া
জম্বি নাগরিক তখন হয়তো নতুন কোন ইস্যুর অপেক্ষায়,
বিস্মৃতির আধারে খেই হারিয়ে আমরা হয়তো তখন-
আরেকজন লোরকার অপেক্ষায় থাকি।
