এখানে সময় স্তব্ধ,
থেমে গেছে শিশুর কোলাহল – কিশোরীর চপলতা-
কিংবা কোনো এক মাঝ দুপুরে-
সাঁতরে বেড়ানো গর্বিত রাজহাঁস গুলো,
বিষণ্ণ বায়স ভুলে গেছে তেষ্টা মেটানোর কথা---
বাতাসে তার আর্ত চীৎকার-
যেন স্বজন হারানোর ব্যাথা।
ঘাসের বুকে পিঁপড়ের সাড়ি-
গন্তব্য একটাই,
সদ্য খোঁড়া গণকবরটি,
যেখান থেকে উঠে আসে একে একে - অনেকগুলো লাশ,
বিকৃত লাশ একেকটা –
যেন থমকে যাওয়া একেকটা মহাকাব্য,
জড়িয়ে আছে যতো স্বপ্ন, আবেগ আর
হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায়।
কালের সাক্ষী প্রত্ন বৃক্ষগুলো-
লাগিয়েছিল কে কবে কোন কালে,
আজ তার বুকে হাজারো স্মৃতি-
অত্যাচার সয়ে নীরবে বেঁচে আছে।
কাঁদতে পারেনা তাই-
খসে পড়ছে জীর্ণ পাতাগুলো – টুপটাপ,
নীরবে দেখছে-
লাশের দীর্ঘ মিছিল।
একপাল দানবের হিংস্র লালসার মুখে
জীবন বিলিয়েছে অসহায়ে যারা-
বাঁচার প্রবল আকুতি – মুঠো ফোন – সংক্ষিপ্ত বার্তা,
সবি আজ রুদ্র ইতিহাস।
ভুলে যাবে একদিন দেশ সমাজ সংসার - সবাই,
ভুলবেনা শুধু হুইল চেয়ারে বসা-
অবোধ শিশুটি,
বাবা যার কাছে ছিলো-
বাঙময় এক আকাশের মতো-
পরম নির্ভরতা।
কিংবা ওই নিস্পাপ কিশোরীটি-
বয়সের সন্ধি ক্ষণে যে হারালো
তার সবকিছু – স্বপ্ন আবেগ ভালোবাসা।
সদ্য বিধবাদের কথা না হয় বাদই দিলাম-
তারাতো খড় কুটো,
ভেসে যাবে জোয়ারের জলে-
আর দশটা জীবনের মতো।।
