শুভাগত সেই যে একবার এলো
তাও প্রায় বছর দশেক হতে চললো-
অমন ফর্সা মুখ, ময়লা চাদরে ঢাকা,
সন্ধ্যের ম্যারম্যারে আলোয় দাড়িভরা মুখে
ওকে বেশ রহস্যময় লাগছিলো-
অনেকটা বেদ-উপনিষদের পাতা থেকে
উঠে আসা ঋষিদের মতো।
শুভটা এসেছিলো ওর পিঠের ক্ষত দেখাতে
কী বীভৎস! পিঠের চামড়ায় দগদগে ঘা-
কি এক অপরাধের সাজা!
হাঁটছিলোও খানিকটা খুঁড়িয়ে-
আমি তখনো পুরোপুরি ডাক্তার হতে পারিনি
সবে ইন্টার্ণ শেষ করে চেম্বার দিবো ভাবছি,
সিগারেটের প্যাকেট থেকে-
রাঙতা মোড়ানো কাগজটা বের করে
দুটো ওষুধের নাম লিখে দিলাম,
পারলে কিছুদিন পর আবার আসিস, দেখিয়ে নিস,
ও ঘাড় কাৎ করে শুধু বলেছিলো, আচ্ছা।
কারন-
ওর ছিলো ফেরার ভীষণ তাড়া
কিংবা ধরা পড়ে যাবার প্রবল উৎকন্ঠা! ভয়।
সেদিন আলাপটা আর জমেনি-
সিগারেটের ধোঁয়ার ফাঁকে ফাঁকে
এক কথা দু কথায় শুধু বলেছিলো-
পুলিশের কাছে এবার সারেন্ডার করবে
জেলের সাজার মেয়াদ শেষে থিতু হবে,
শ্রেণী শত্রু খতমের নামে এই যে শত্রু শত্রু খেলা!
এটা আর ভালো লাগছে না মাইরি।
কিন্তু ফেরার পথও তো অবরুদ্ধ! ও জানে-
ওতো জানে, ওর মাথার উপরে পুলিশের হুলিয়া-
হয়তো তারাই ......
কিংবা শুদ্ধি অভিযানের নামে পার্টির লোকেরাই......
সে নিজেও তো এরকম অনেক কিছুর স্বাক্ষী,
তখনই জানলাম ও আন্ডার গ্রাউন্ড রাজনীতিতে।
গল্পের মোড় ঘোরাতে এটা সেটা জিজ্ঞেস করছি
বদ্ধ পরিবেশটা হালকা করতে সেও অল্প বিস্তর বললো,
মেসোমশাই মারা গেছেন হার্টের অসুখে
ছোট বোনটার বিয়ে হয়েছে-
পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলিয়াঘাটায় থাকে।
মাসিমার দুচোখে ছানি পড়েছে-
জেল থেকে ছাড়া পেলে অপারেশন করাবে
কিন্তু তা আর করা হয়ে ওঠেনি।
শুভাগত সেই যে গেলো-
সে আর ফিরে আসেনি।
আসলে মেঘের আড়ালে যে পাখিরা হারায়
পাখার চিহ্ন ধরে তাদের কেউ কেউ হয়তো ফেরে-
অনেকে আর ফেরে না। কখনো না,
অভিমানী পাখিরা ফেরেনা
শুভাগত হোম ফেরেনি।
