সেই যে তুই আকাশের তারা হয়ে গেলি!
তারপর থেকে....কতোটা দিন-মাস-বছর!
তোদের ওদিকটাতে আর যাওয়া হয়নি,
ছাতিম গাছের নিচে তোদের দোচালা ঘর
ডাসা অরুণাভ ডালিমে ন্যুয়ে পড়া গাছ
পাশে পাতকুয়ো আর অদূরে নিকোনো উঠোন,
তুলসী-শালগ্রাম শিলা সবমিলিয়ে
ক্যাম্বিসে আঁকা একটা জলছবি যেন!
এমনকি মাসিমার বানানো নাড়ুর লোভেও
যাওয়া হয়নি, শুনেছি ঘোলাটে দৃষ্টি মেলে-
তিনি আজো নিয়মিত চন্ডী পাঠ করেন,
তার চোখের ছানি কাটা হয়নি আজো।
শুভাগত মনেপড়ে! পুজোর ছুটিতে-
দশোহরার মেলায় যেতাম একসাথে!
মাসি আঁচলের গেরো খুলে আধুলি-সিকি দিতেন
আর তা দিয়ে আমরা বাতাসা-সন্দেশ-গজা
কিসব কিনে খেতাম, বায়োস্কোপ দেখে
লেবেন্চুস খেতে খেতে আমরা ঘরে ফিরতাম,
ধর্মের পরিচয় কখনো বাঁধা হয়নি আমাদের বন্ধুত্বে
দাদা-দিদি,ভাই-বোন, সবার স্নেহ গায়ে মেখে-
আমরা তাই একসাথে বেড়ে উঠেছিলাম,
আমরা তখন সত্যিকারের মানুষ ছিলাম।
তারপর বড় হতে হতে আমরা যেনো ক্রমশঃ
গুটিয়ে গেলাম, ক্ষুদ্র হয়ে গেলো আমাদের গন্ডি!
চারপাশে এতো যে পরিচিত মানুষের মুখ-
তারাও কেমন যেন ছায়া, ধোঁয়াশে হয়ে গেলো
আমি তাদের স্পর্শ করি কিন্তু নাগাল পাই না।
সেই যে আমার ছোটবেলা! আমাদের বন্ধন!
মাসিমার নাড়ু-বায়োস্কোপ-লেবেন্চুস
সব স্মৃতি কেমন ফিকে-পানসে হয়ে গেলো!
আমরা যে একইরকম, রক্ত-মাংসের মানুষ
এই পরিচয়টা তবে কোথায়! তবে কি
ধর্মের পরিচয়টাই আজ বড় হয়ে গেলো!
শুভাগত মরে গিয়ে তুই বরং ভালোই আছিস
তোকে দেখতে হলোনা কিকরে আমরা-
বড় হতে হতে একসময় ছোট হয়ে গেলাম!
