জীবন কথা
সুমন সুবহান একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আজন্ম ভ্রমণপিয়াসী। উত্তরবঙ্গের জনপদ দিনাজপুরের গুড়গোলায় জন্ম নিলেও তার শৈশব ও কৈশোরের মনন গঠিত হয়েছে রংপুরের আলো-বাতাসে। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, কারমাইকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দীর্ঘ দু'বছরের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি দেশের সেবায় যোগ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনিতে। দীর্ঘ ৩৩ বছরের এক গৌরবোজ্জ্বল সামরিক জীবন অতিবাহিত করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
কর্মজীবনের এই সুবিস্তৃত পথপরিক্রমায় তিনি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন। এই বৈচিত্র্যময় দেশভ্রমণ কেবল তার অভিজ্ঞতার ঝুলিকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং তার দেখার দৃষ্টিকে করেছে আরও প্রসারিত ও গভীর।
কঠোর সামরিক শৃঙ্খলার নিগড় আর পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও সুমন সুবহানের হৃদয়ে সাহিত্যের ফল্গুধারা ছিল চিরপ্রবহমান। শৈশবে লিটলম্যাগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সৃজনশীল নেশার হাতেখড়ি, তা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অপারেশন কিংবা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের বিপদসঙ্কুল দিনগুলোতেও স্তিমিত হয়নি। কবিতা তার প্রধান আরাধ্য হলেও সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়—গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে তার পদচারণা সমান স্বচ্ছন্দ। ইতিমধ্যে তার বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ, গল্পগ্রন্থ ও প্রবন্ধ-উপন্যাস প্রকাশিত হয়ে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। সাহিত্যের সুকুমার বৃত্তির পাশাপাশি একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সজাগ; সমসাময়িক জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার তীক্ষ্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণগুলো নিয়মিতভাবে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়।
তার রচিত কবিতা দেশের প্রথম সারির আবৃত্তিশিল্পীদের কণ্ঠে যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি স্থান পেয়েছে মর্যাদাপূর্ণ বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীতে। বর্তমানে এই নিভৃতচারী লেখক তার অবসর জীবন উৎসর্গ করেছেন সাহিত্যচর্চা, বিশ্বভ্রমণ এবং নিবিড় গ্রন্থপাঠে—যেখানে তার প্রতিটি অক্ষর হয়ে ওঠে যাপিত জীবনের এক প্রামাণ্য প্রতিচ্ছবি।