যে সময়ের কথা বলছি তখনও যমুনা বহুমুখী ব্রিজ
চালু হয়নি। সে প্রায় বিশ পঁচিশ বছর আগের কথা। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়াটা তখন রীতিমত ঝক্কির
ব্যাপার ছিল। বাসে গেলে গাবতলি থেকে আরিচায় ফেরী পার হয়ে তারপর যেতে হত উত্তরবঙ্গে। আর
গাড়ীগুলোও ততটা উন্নত বা আরামদায়ক ছিলনা।
এছাড়া রাস্তা ততটা ভাল না হওয়াতে দুর্ঘটনা প্রায়ই লেগে থাকত। তাই নিরাপদে জার্নি
করার জন্য ট্রেনই ছিল একমাত্র আরামদায়ক মাধ্যম। সবাই একান্ত বিপদে না পড়লে বা
ট্রেনের টিকেট ম্যানেজ করতে না পারলেই তবে বাসে জার্নি করার কথাটা ভাবত। তবে ট্রেন
জার্নি যে খুব বেশী ভাল ছিল তা কিন্তু বলা যাবেনা। কারণ রেলপথেও যমুনা নদীতে কোন
ব্রিজ না থাকায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে বাহাদুরাবাদ ঘাটে যেতে হত। তারপর
ষ্টীমারে নদী পার হয়ে ওপারে অপেক্ষমান ট্রেনের বগিতে উঠে আবার যাত্রা আরম্ভ করতে হত। তবে এইযে বাহাদুরাবাদ ঘাটে ট্রেন থেকে নেমে ষ্টীমারে ওঠা কিংবা
ষ্টীমার থেকে নেমে দৌড়ে ওপারে অপেক্ষমান ট্রেনের বগিতে ওঠা, এটা কিন্তু আসলেই একটা
বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রের মত ছিল। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই আসন দখলের জন্য বেশ দৌড় ঝাপ করতে
হত আর সেটা যেকোন যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে কোন অংশে যে কম ছিলনা তা নিশ্চিত করে বলা
যায়। যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমেই দৌড়ে যেয়ে ষ্টীমারে উঠছে কিংবা
ষ্টীমার ফুলছড়ি ঘাটে ভেরা মাত্রই নেমে দৌড়ে ট্রেনে উঠছে সে এক দেখার মত দৃশ্য ছিল বটে। তবে এত
ঝামেলা ঝক্কির মধ্যেও মজার দৃশ্য ছিল ঘাটের খোলা রেস্তোরাঁগুলোতে সাজিয়ে রাখা
মজাদার সব রান্না আর সেখান থেকে বয় বাবুর্চিদের হাঁকডাক। সেসব রেস্তোরাঁর
হাড়ি-পাতিল থেকে গরম ভাতের ভাপ মাতাল করে দিত যাত্রীদের। আর তাদের বড় বড় সব পাত্রের ডালে ঘাস ফড়িঙের দল ডুবসাঁতার
দিত, ভাল ভাবে পরখ করে না খেলে ছোট চিংড়ী ভেবে খেয়ে ফেলার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকত। সেদ্ধ
ডিমের তরকারী, ইলিশ মাছের ডিম, নদীর বড় মাছ
ভুনা কিংবা মলা মাছের চচ্চড়ি কি নেই সেখানে! তবে অবিশ্বাস্য ব্যাপার হল সব তরকারীর
ঝোলই ছিল টকটকে লাল। সেটা শুঁকনো মরিচ বা অন্য কোন কারণে হতে পারে। রাতে সেসব
দোকানে হ্যাচাক লাইট বা গন্গনে মশাল জ্বলত। আর সে আলোয় ঘর্মাক্ত বাবুর্চিরা
একঘেয়ে ভাবে পরাটা বা রুটি বানিয়ে চলত। ভাবটা এমন যে তারা যেন সৃষ্টির শুরু থেকেই
অবিরাম কাজের ঘানি টেনে চলছে , আর তা থেকে যেন মুক্তি নেই তাদের।
এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দখল করে রেখেছে রাজধানীর রাজপথ। প্রায় প্রতিদিনই
মিছিল মিটিং শহরের অলিগলি তাতিয়ে রাখত। পুরো শহর যেন তখন মিছিলের নগরী। প্রায়ই
ছাত্রদের হলগুলোতে চলত বেরসিক পুলিশের তল্লাশি। আর চলত নির্বিচারে গ্রেফতার
নির্যাতন। কর্তৃপক্ষ তাই প্রায়ই হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করে রাখত। অথবা আন্দোলনের চাপ
কমাতে সরকারের ইচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ ঘোষণা করা হত তখন এক রকম বাধ্য হয়েই
ছাত্রদের হলের রুম খালী করে দিতে হত। তখন অনেকেই ছড়িয়ে পড়ত ঢাকা শহরে থাকা আত্মীয়
স্বজনদের বাসায় কিংবা বন্ধুবান্ধবদের মেস গুলোতে। আবার অনেকে এই অযাচিত
ছুটিতে নিজেদের শহরে বা গ্রামে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে
যেতে হত ফেরত চিঠির মত। একদিন অনেকটা দ্বিধার দোলায় দুলতে দুলতে সোহেল আর পল্লব এক
কাক ডাকা ভোরে হলের রুম খালি করে দিয়ে কমলাপুরের দিকে পা বাড়ায়। সোহেলের বাসা রংপুরে
আর পল্লব থাকে দিনাজপুরে। তারা দু’জনেই থাকে সূর্যসেন হলের একই রুমে। বেশ ভাল
বন্ধু তারা। কাউন্টারে কোন টিকেট না পেয়ে অগত্যা ব্ল্যাকে টিকেট কাটে দু’জন। এরপর
প্লাটফর্মে কিছুক্ষণ পায়চারী শেষে দু’জনই সিগারেটের শলায় শেষ টানটা দিয়ে বাট ছুঁড়ে
দেয় ডাস্টবিনে। এরপর লাফিয়ে উঠে পড়ে ট্রেনে। সেখানে রংপুর বা দিনাজপুরের যাত্রীদের
জন্য আলাদা বগি থাকত। সোহেল ট্রেনে তার বগিতে উঠে নিজের আসন খুঁজে নিয়ে বসে পড়ে। লেখাটা
মূলত সোহেলকে নিয়েই।
ট্রেনের জানালার পাশে সোহেলের সীট। সে
তাকিয়ে থাকে জানালার বাইরে। সেখানে একে একে হারিয়ে যেতে থাকে চিরচেনা দৃশ্যপট। অচেনা
গ্রাম-নগর-বন্দর। হাজারও অদেখা মুখ এসে ভিড় করে দ্রুত অপসৃয়মান ছায়ার ভিতর। হারিয়ে
যায় সেসব নাম না জানা মুখ কালের আবর্তে। আদিগন্ত বিস্তারি ফসলের মাঠ আর আকাশছোঁয়া সবুজের গাঢ়
ছোপছোপ প্রাণে দেয় দোলা। কোন এক অজানা কিশোরী লালজামা গায়ে ফসলের মাঠের সরু আল ধরে
হেটে যায়,কোলে তার কালো ছাগল ছানা। কোথায় যায় সে কিশোরী! ভাবালুতায় পেয়ে বসে
সোহেলকে। সে হারিয়ে যায় বাস্তব আর পরাবাস্তবের মাঝে অন্য কোথাও অন্য কোন খানে।
সংবিৎ ফেরে এক ভিক্ষুকের ডাকে। অন্ধ ফকীর গান গেয়ে ভিক্ষে করে চলেছে বগি থেকে
বগিতে। মানিব্যাগ থেকে খুচরা পয়সা বের করে তার থালায় দিয়ে বাইরে তাকায় আবারো।
কিন্তু ভাবালুতার সূতায় একবার টান পড়লে তা বোধ হয় কেটে যায়। নতুন করে ভাব আসেনা।
সোহেল চুপচাপ বসে থাকে কিছুক্ষণ, কিন্তু তার এভাবে বসে থাকতে ভাল লাগেনা বোধহয়। তাই
একটু পরে উঠে দাঁড়ায়। সামনের সীটে বসা গম্ভীর বৃদ্ধ যাত্রীকে তার ব্যাগের দিকে
খেয়াল রাখতে অনুরোধ করে পাশেই দিনাজপুরের বগিতে যায় পল্লবের সঙ্গে আড্ডা মারবে
বলে। পল্লব তখন ওর সীটে বসে ঘুমাচ্ছে মুখ হা করে। পিঠে গুতো মেরে পল্লবের ঘুম ভাঙ্গিয়ে ওর পাশে এক প্রকার জোড় করে
বসেই পড়ে। পাশের যাত্রী বিরক্ত হলেও মুখে কিছু বলেনা, খানিকটা সরে বসার জায়গা করে
দেয়। সীটে বসার পরই সোহেলের চোখে মুখে যেন আনন্দের ছোঁয়া খেলা করে। আফসোস হচ্ছিলো
কেন যে তার সীটটা এ বগিতে হলনা! ইশারা করে পল্লবকে দেখায়। আধাঘুমন্ত পল্লব প্রথমে
বুঝতে না পারলেও পরে যখন ভালভাবে খেয়াল করে তখন নড়েচড়ে বসে সেও।
কয়েকটা সীট সামনে ৮৫ ডিগ্রী কোণে ট্রেনের
বগিকে ধন্য করে বসে আছে এক সুন্দরী ললনা। মাথা ভরা চুল তার কালো ডাগর আঁখি। বসে আছে ভেনাস মূর্তি
হয়ে তাদের সামনে। সম্ভবত এ ধরনের মেয়েদের জন্যই ট্রয় নগরীরা বারবার ধ্বংস হয় আর
হাজারো জনপদ বিলীন হয় অসির আঘাতে। সম্ভবত ৫ ফুট ৩ অথবা ৪ ইঞ্চির শরীরে তার যৌবনের
হাতছানি তাতে হারিয়ে যাবার জন্য। সেই খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতক অথবা খ্রীষ্টপরবর্তী পঞ্চম
শতকের প্রথমাংশে কালিদাস তার মেঘদূত কাব্যে শ্লোক-৮৩তে যক্ষপ্রিয়ার স্বভাবী রুপের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন
তা যেন সৌন্দর্যের অপার ঐশ্বর্য নিয়ে বসে
থাকা সামনের জনের জন্যও প্রযোজ্য। বসে আছে সে, তার কোলে বাচ্চা,এক কিংবা দেড় বছর বয়সের
হবে,পাশে আরেকজন বছর পাঁচেক হবে। তারা কি তার সন্তান! দু দু’টো সন্তান! মনটা দমে যেতে
যায় অচেনা সুন্দরীর জন্য। এত তাড়াতাড়ি বিয়েটা কি খুব দরকারি ছিল? কি ক্ষতি ছিল আরও
কয়েকটা বছর পরে বিয়ে করলে। শেষে সে কিনা একজন বিবাহিতা মহিলার প্রেমে মজে গেল!
এরকম যখন সে ভাবছে তখনি চার চোখের মিলন হয়ে গেল। দৃষ্টি সরালো না সোহেল,সোহেলের
দৃষ্টি তার দিকে সুপার গ্লুর মত এঁটে রইল। কিন্তু যক্ষপ্রিয়াও যে তাই করল! একই
ভাবে অপলক দৃষ্টিতে সেও তাকিয়ে সোহেলের দিকে। সোহেল
প্রথমে একটু কনফিউজড থাকে, সেকি
সত্যি সত্যিই তার দিকেই তাকিয়ে নাকি তার বরাবর অন্য কাউকে বা অন্য কিছু দেখছে! সে
পিছন ফিরে তাকায় কিন্তু সেদিকে তেমন কিছু দেখতে পায়না। এরপর সে হাসি দিলে যক্ষপ্রিয়াও
সেভাবে প্রত্যুত্তর দেয়। এবার সোহেল মোটামুটি ভাবে নিশ্চিত হয় যে যক্ষপ্রিয়া তার
সাথেই রঙ্গ রস করছে। তার এসব দুষ্টামিতে পল্লব বিরক্ত হয় কিন্তু মুখে কিছু বলেনা।
সে চোখের পাতা বন্ধ করে ঘুমাবার ভান করে। হয়ত তার জেলার মেয়ের সঙ্গে দুষ্টামি করছে
দেখে অজানা কারনে তার অহম বোধে আঘাত লাগে। কিন্তু সোহেল পল্লবের এই হঠাৎ শীতলতায়
গা করেনা,সে তার কাজ চালিয়ে যায় পুরোদমে।
সোহেল ভাবে শেষে কিনা একজন বিবাহিতা মহিলার
সঙ্গে! তারমানে সেকি কোন পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল। হায়! এও লেখা ছিল কপালে! এসব
আকাশ কুসুম ভাবতে ভাবতে ট্রেন এসে বাহাদুরাবাদ ঘাটে পৌঁছে। সময়টা এখন প্রেমের জন্য নয় মোটে। ভাব আর অভাবের
দ্যোতনায় দুলতে দুলতে বিশাল যুদ্ধক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ার জন্য সীট থেকে উঠে দাড়ায় সে,তার
বগিতে ফিরে ব্যাগ নিয়ে ষ্টীমারের উদ্দেশে দৌড়াবে বলে। সেখানে সীট ম্যানেজ করতে না
পারলে কষ্ট হবে ভীষণ। ষ্টীমারে অনেকটা সময় পাড়ি দিতে হয়। পল্লব ওর বগি থেকে নেমে
এলে দু’জন দ্রুত বেগে হেঁটে কিংবা প্রায় দৌড়ে যায় ষ্টীমারের দিকে। ষ্টীমারের প্রথম
শ্রেণীর কামরায় জানালার পাশে ভাল সীট পেয়ে
বসে পড়ে তারা। ভালই হল নদীর পারের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাওয়া যাবে। কিন্তু নিজে ভাল
সীটে বসলে কি হবে সোহেলের তো মন পড়ে রয়েছে
যক্ষপ্রিয়ার কাছে। তারা কি ষ্টীমারে উঠতে পেরেছে? ভাল সীট পেয়েছে কি? ইত্যাকার
নানান প্রশ্ন গ্রীক প্রেমের দেবতা কিউপিডের ডানায় উড়ে এসে ভর করে তার মাথায়।
দৃষ্টি যায় পাশের সীটগুলির দিকে। এখনও
খালি পড়ে আছে সেগুলো। ইস্ সে যদি এখন এসে পৌঁছাত! তাহলে ওসবের যে কোন একটাতে সে বসতে
পারত! শেষে কি ভেবে একটা সীটের ওপরে ব্যাগটা রেখে পল্লবকে খেয়াল রাখতে বলে। সে সিগারেট ধরানোর অজুহাতে যক্ষপ্রিয়াকে খুঁজতে
বেরোয়। পল্লব কি বুঝতে পারে সেটা! হয়ত পারে কিংবা হয়ত না। সোহেল সেটা গায়ে না মেখে
স্রাগ করে অপারেশনে বেরিয়ে পড়ে। অপারেশনের নাম-অপারেশন যক্ষপ্রিয়া হান্ট।
ষ্টীমার শেষ বারের মত ভেঁপুতে বিকট আওয়াজ তুলে
ঘাট ছেড়ে যায় কিন্তু যক্ষপ্রিয়ার দেখা মেলা ভার। বরুণার জন্য সুনীলের ১০৮টা
নীলপদ্ম তন্ন তন্ন করে খুজে আনার মত সেও যক্ষপ্রিয়াকে তন্ন তন্ন করে খোঁজে ষ্টীমার
জুড়ে কিন্তু দেখা পায়না। তবেকি ষ্টীমার
ফেইল করল সে বা তারা! হঠাৎ রাগ হয় তার ষ্টীমার চালকের ওপর। আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে কি ক্ষতিটাইবা হত! তার যক্ষপ্রিয়া
হয়ত সন্তান কোলে দৌড়ে আসতে পারেনি, তাই ষ্টীমার ধরতে পারেনি। মেঘদূতের মেঘেরা এসে আচ্ছন্ন
করে সোহেলকে। বুকের কোথায় যেন একটা
ক্ষীণ চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করে সে। ষ্টীমারের ছাদে যেয়ে রেলিঙের ধারে বাউলা
বাতাসে দাড়িয়ে সিগারেটে আগুন ধরায় কিন্তু তাতে টান দেয়ার তাড়না অনুভব করেনা। কেমন
বিস্বাদ লাগে মুখটা। সিগারেটের লালাভ আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলতে জ্বলতে একসময় বাটে
এসে ঠেকে কিন্তু সোহেল উদাস হয়ে তাকিয়ে নদীর অভাগা পারের দিকে। সেখানে গাঁয়ের রাখাল
বালক গরুদের গোসল করায় আর জেলেরা পানিতে ফেলে ঝাকি জাল, মাছ পাবার আশায়। তিন
প্রহরের বিলে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর খেলা করে আর যমুনার ঘোলা জলে সিক্ত
বসনা রমণীরা খেলা করে পার ভাঙ্গা ঢেউয়ের সঙ্গে। তারা হাসে কলকলিয়ে, তাদের সে হাসির
ছর্রা খাবি খায় ষ্টীমারের মরচে ধরা ফ্রেমের পরতে পরতে। সোহেলকে দেখে তাদের কেউ
কেউ নগ্ন বক্ষ ঢাকে জলে ভেজা আঁচলে। সোহেল বিরক্ত হয়ে সিগারেটের বাট ছুড়ে দেয়
যমুনার বুনো ঘূর্ণিতে, পাক্ খেতে খেতে একসময় হারিয়ে যায় সেটা। সে শূন্যতার দিকে
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ষ্টীমারের কামরায় ফেরার জন্য ঘুরে দাড়ায় সোহেল। সীটে ফিরে
একটা জবরদস্ত ঘুম দিতে হবে এখন, অনেক রাতের ঘুম পাওনা তার, সব মেটাতে হবে আজ
সুদেআসলে।
কিন্তু কামরায় ফিরে সে একি দেখছে! ঘুমের
সঙ্গে পাওনা হিসাব অন্য দিনের জন্য তোলা রইল। সে হিসাব
মেটাবে অন্য কোন সময়ে কিন্তু এখন সে যা দেখছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এরকম আসলে বাস্তবে ঘটেনা, কিন্তু এত এক সুখকর বাস্তবতার মুখোমুখি সে। শরীরে চিমটি কেটে
দেখে। নাহ্, সবই ঠিক আছে। এ যেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুরমার ঝুলির পাতা
থেকে ভাগ্য দেবী এসে তার কাঁধে সওয়ার হয়েছে, তা নইলে যক্ষপ্রিয়া এসে কেন তার পাশের
সীটটাতেই বসবে! সে জানত অলৌকিক ঘটনা সব শুধু দ্বাপর যুগেই ঘটেছে, কিন্তু এত
দেখছি কলিযুগেও ঘটে! সে ভিতরে ভিতরে একটু
নার্ভাস বোধ করে কিন্তু মুখের অভিব্যক্তিতে তার প্রকাশ পেতে দেয়না। যেন কিছুই হয়নি
এমন ভঙ্গীতে এগিয়ে এসে ব্যাগটা সীটের ওপরের র্যাকে রেখে যক্ষপ্রিয়ার পাশে বসে পড়ে সোহেল। কিন্তু
বুকের ভেতরে অবিরাম বৃষ্টির ফোঁটার মত একঘেয়ে ঢিপ্ ঢিপ্ শব্দটা বন্ধ হচ্ছে না
মোটে। যে জোরে বুকের ভিতরে কিউপিড হাতুড়ি
মারছে শেষে কেউনা আবার সে শব্দ শুনে ফেলে! আড় চোখে তাকায় যক্ষপ্রিয়ার দিকে। যক্ষপ্রিয়াও
তাই করে। যক্ষপ্রিয়া তার বাম পাশে বসা এক ভদ্র মহিলার কোলে বাচ্চাটিকে এগিয়ে দেয়। ভদ্র
মহিলা বাচ্চাকে খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যক্ষপ্রিয়া কাছে টেনে নেয় বছর পাঁচেকের
বাচ্চাটিকে। পাশে বসায়। তাদের সম্পর্কটা সোহেল ঠিক বুঝতে পারেনা। তার কপালে
চিন্তার রেখা উঁকি দেয়। তবেকি বাচ্চাটা তার নয়! উফ্! খোদা তাই যেন হয়। বুকের ভেতরে এক ধরনের খুশীর
জোয়ার বয়ে যায়। সোহেলের বুকে হাজারটা বোয়াল মাছ ঘাই দিয়ে চলে অবিরত, সে উসখুস করে
কিন্তু কথা বলার কোন ছুতো খুজে পায়না। এদিকে ষ্টীমারও আর কিছুক্ষণ পরই হয়ত ঘাটে ভিড়বে।
এরপর কয়েকটা স্টেশন মাত্র, তারপরই তাকে নেমে যেতে হবে ট্রেন থেকে। তবেকি না বলা কথাগুলো
আর বলা হবেনা! জানা হবেনা তার পরিচয়! তীরের এত কাছে এসে তরী ডোবাতে চায়না সে। এরপর
একরকম সাহস করেই পাশে বসা বাচ্চাটিকে তার নাম জিজ্ঞেস করে। তুষার নাম তার। এরপর
এটা সেটা জিজ্ঞেস করার পরে আসল প্রশ্ন অর্থাৎ যক্ষপ্রিয়া তার কি হয় জানতে চাইলে সে
জানায় সে তার ছোট আন্টি। তাদের সঙ্গে তার মা-বাবা। তারা ঢাকায় তার বড় আন্টির বাসায়
গিয়েছিল। এখন দিনাজপুরে নিজেদের বাসায় ফিরে যাচ্ছে। সোহেলের বুকে
জগদ্দল পাথরের মত চেপে থাকা বস্তুটা অকস্মাৎ
নেমে যায়। সে নিজেকে হিলিয়াম গ্যাস ভরা ফুরফুরে বেলুনের মত অনুভব করে। বাচ্চার
সঙ্গে কথাতো অনেক হল কিন্তু যক্ষপ্রিয়ার সঙ্গেতো কথা হচ্ছেনা! এরপর খানিকটা সাহস সঞ্চয় করে সে ভাগ্নেকে অবলম্বন করে
যক্ষপ্রিয়ার নাম জিজ্ঞেস করে। হয়তো এতটুকুর জন্যই অপেক্ষারত ছিল তার যক্ষপ্রিয়া। সে লোপা।
দিনাজপুর মহিলা কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। কথার অর্গল খুলে যায় তার বাঁধ ভাঙ্গা
জোয়ারের জলের মত। তার হঠাৎ প্রগলভ হয়ে ওঠাতে তার বোন মাঝে একবার বিরক্ত হয় কিন্তু
সোহেল তাকে সালাম দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হলে সে বাঁধনটুকুও কেটে যায়। এরপর গল্পে
গল্পে ষ্টীমার কখন ঘাটে ভিড়েছে তারা বুঝতেই পারেনা। লাল ফতুয়া গায়ে কুলীদের মালপত্র ধরে টানাটানিতে তাদের সংবিৎ ফেরে। ইস্, এই পথ যদি আজ
শেষ না হত কি ভালই না হতো তাহলে! কিন্তু বাস্তবতা তো একটু ভিন্ন। নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে ষ্টীমার থেকে নেমে
পরে তারা। তাড়াতাড়ি নিজেদের বগির দিকে পা ফেলে,কিন্তু তার আগে ট্রেন উঠে আবারো কথা
বলার প্রতিশ্রুতি বিনিময় করে নেয় তারা। আবারো নাকের বন্দরে এসে ভিড় করে গরম ভাতের
মাতাল করা ঘ্রাণ। বুনো মহুয়ার মত সে ঘ্রাণ সাঁতরে সোহেল এগিয়ে যায় ফুলছুড়ি ঘাটে
অপেক্ষমান ট্রেনের বগির দিকে।
সোহেল
ওপারে অপেক্ষমাণ ট্রেনে উঠে রংপুরের যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে তার সীটে বসে পড়ে।
জানালার পাশে সিঙ্গেল সীট। সম্মুখে গম্ভীর মুখের সেই বৃদ্ধ ভদ্রলোক বসেছেন। চোখের
সম্মুখে সেদিনের দৈনিক পত্রিকাটা মেলে ধরে গভীর মনোযোগে একটা কিছু পড়ছেন তিনি। কিছুক্ষণ
পরেই মৃদু একটা ঝাঁকি দিয়ে সাপের মত হিস্হিস্ শব্দে ট্রেন চলতে শুরু করে তার
নিজস্ব রিদমে। দারুণ সে ছন্দের মাধুরী তার মাঝে অনুরণন তোলে। ট্রেনটাকে তার একসময় মনেহয়
বিশাল একটা এ্যানাকন্ডা, যেটা অ্যামাজনের গহীন অরণ্য ছেড়ে এই জনপদে এসেছে সব কিছু
গিলে খেতে। একমনে বাইরে তাকিয়ে আবোল তাবোল ভাবতে থাকে সে। আর একটা ষ্টেশন পেরলে সে
পাশের বগিতে যাবে লোপার সঙ্গে কথা বলতে। তার আসলে তখনি যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু লজ্জাবোধ তাকে জংলী হাতির
পায়ের লোহার বেড়ির মত আটকে রাখে। তাছাড়া তাদেরকে তাদের সীটে ভালভাবে বসার সময়তো
দিতে হবে! কিন্তু তাকে আর কস্ট করে পাশের বগিতে যেতে হয়না। লোপা নিজেই ভাগ্নেকে
হিসু করানোর অজুহাতে তার বগিতে এসে হাজির।
সিঙ্গেল সীট তাই শেয়ার করার কোন উপায় নেই।
তাছাড়া সামনের মৌনব্রত পালনকারীর বিরক্তির খোরাক হতে না
চেয়ে তারা। তাই ট্রেনের
দরজার কাছে এসে দাড়ায়। সেখানে খোলা দরজায় হেলান দিয়ে মুখোমুখি দাড়িয়ে গল্প করতে
থাকে তারা। কি সে গল্প যার কোন শুরু বা শেষ নেই! একেক সময় একেক প্রসঙ্গে কথার ফোয়ারা ছুটিয়ে
চলে লোপা। সোহেল তার কিছু শোনে, কিছু শোনেনা,আবার কিছু কথা প্রবল বাতাসে ইথারে ভেসে
যায়। মাঝে মাঝেই দমকা হাওয়ার তোড়ে দীঘল কালো চুলের ডগা বা জুলফি এসে তার মুখ বা
ঠোঁটের ওপর পরে,সে বিরক্ত হাতে তা সরিয়ে দেয় কিন্তু কথার খৈ ফুটতেই থাকে। সে শুধু
মুগ্ধ হয়ে তার কথা বলা দেখে। হাত নাড়িয়ে বা বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গি করে কথা বলা, কখনো
বাঁধ ভাঙ্গা হাসিতে গড়িয়ে পরা। সোহেল তার উচ্ছ্বাস–অভিব্যক্তি সব খুটিয়ে খুটিয়ে
দেখে। আর সে যতোই দেখে ততোই মুগ্ধ হয়। তার আসলে বিশ্বাস হতে চায়না এভাবে সে তার
সঙ্গে ট্রেনের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। লোপা যেন তার সামনে অপার বিস্ময় নিয়ে
দাড়িয়ে আছে। কখনোবা ভিলেন বাতাস এসে তার ওড়না উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়। চায় তার
বুকে লুকিয়ে থাকা শ্রাবস্তী নগরী সোহেলের সামনে উম্মুক্ত করে দিতে। কিন্তু লোপা কি দারুণ দক্ষতায় তা হতে দেয়না। অধরা নগরী
তার প্রাচুর্য্য নিয়ে ঘুমিয়ে থাকে আবিষ্কারের অপেক্ষায়। লোপা ওড়নাটাকে তার শরীরের
সঙ্গে টান টান করে পেঁচিয়ে নেয় যেন সেটা পলকা হাওয়ায় উড়ে না যায়। ইস্ সে যদি
লোপার শরীর পেঁচিয়ে থাকা ওড়নাটা হতে পারত! সোহেল আপ্রাণ চেস্টা করে শ্রাবস্তী
নগরীর ঐশ্বর্যের দিকে না তাকাতে। কিন্তু তার বেয়াড়া চোখ দু’টো যেন তার কথা শুনতে
চায়না। তারা যেন পণ করেছে ঘুমন্ত নগরীর
ঘুম ভাঙ্গাবে এই অবেলায়। কামনার ডাল-পালাগুলোকে ছেঁটে দিয়ে ভালমানুষির মুখোশ পরে
সে নিজেকে সংযত রাখে। তবে সে তার জন্য অপেক্ষমাণ দারুণ এক ভবিষ্যতের কথা ভেবে আলোড়িত
হয়। লোপার ভাগ্নে কাবাবের মধ্যে হাড্ডি হয়ে ক্রমাগত বিরক্ত করতে থাকে তাই গল্পে
আপাতত ছেদ টেনে সে চলে যায়,কিন্তু দিয়ে যায় আবারও ফিরে এসে গল্প করার প্রতিশ্রুতি।
সোহেল দরজার কাছ থেকে সরে এসে তার সীটে বসে পড়ে আবারো। ট্রেনটা তীক্ষ্ণ হুইসেল বাজিয়ে হিস্হিস্ শব্দে কাউনিয়া স্টেশনে এসে থামে। সেখানে ট্রেনের ইঞ্জিন দিক বদল করবে। অসংখ্য যাত্রী নেমে যায়, আবার অনেক যাত্রী ওঠেও। সামনের বৃদ্ধ ভদ্রলোক নেমে গেলেও তার সীটটা অবশ্য ফাঁকাই থাকে। আজ হয়ত অন্য দিনের চেয়ে যাত্রীরা সংখ্যায় কম তাই কেউ সীটের মালিকানা বুঝে নিতে আসেনা। সেও অবশ্য মনে মনে চেয়েছিল ওটা ফাঁকাই থাকুক। কেউ যেন এসে না বসে সেখানে। কিছুক্ষণ পর ট্রেন ছেড়ে দেয় এবং লোপা এসে তার সামনের সীটে বসে পরে এমন সহজ ভাবে যেন ওটা তারই সীট, তারই বসবার কথা সেখানে! ক্রমান্বয়ে ট্রেনের গতি বাড়ে আর বাড়ে লোপার গল্পের ফোয়ারা। জানালার প্রান্ত গ’লে শেষ বিকেলের সোনা রোদ এসে পড়ে তার চোখে-মুখে-ঠোটে। কণে দেখা সে আলোয় অপার্থিব লাগে তার স্নেহ মাখা মুখখানি। জানালার ধারের চিবুকের পাশটা কোমল রোদের পরশে একটু বেশি উজ্জ্বল দেখায় চিবুকের অন্য পাশটার চেয়ে। একরকম আলো আঁধারিও খেলা করে তার মুখের রাজ্যে, বিদর্ভ নগরীতে। ইচ্ছে করে নগরীর প্রান্ত ছুঁয়ে দেখতে। জানতে ইচ্ছে করে তার অলি-গলি-রাজপথ। সে ইচ্ছেটাকে ভবিষ্যতের জন্য তুলে রেখে সে আপাতত মনোযোগ দেয় লোপার কথায়। তাকিয়ে থাকে তার দিকে। হয়ত এরকম কোন আলো ঝলমলে মুখের দিকে তাকিয়েই জীবনানন্দ দাস বনলতা সেন লিখেছিলেন। এমন বিখ্যাত কবিতা এমনতরো রমণীদেরই মানায়। ট্রেনের বেপরোয়া গতি রংপুরের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে তার দূরত্ব কমিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের কথাতো অফুরান! কি হবে তাদের! লোপাকে সেটা মনে করিয়ে দিলে রাজ্যের আঁধার নেমে আসে তার চোখে-মুখে চন্দ্রগ্রহণের মত। কথার খেই হারিয়ে ফেলে সে। কাগজ কলম বের করে বাসার ঠিকানাটা চটজলদি লিখে নেয় সোহেল। একে অপরকে চিঠি লেখার প্রতিশ্রুতি বিনিময় করে তারা। আর প্রতিশ্রুতি দেয় দেখা করার। হঠাৎই পরিবেশটা কেমন যেন ভারী আর ভেজা ভেজা লাগে,যেন মেঘদূতের মেঘ ভিজিয়ে দিয়েছে তাদের। লোপা গল্প করতে চায় কিন্তু গল্পটা কেন যেন আর ঠিক জমে ওঠেনা। সুতোটা কোথায় যেন টান খেয়ে ছিঁড়ে গেছে। সোহেল একটু দস্যিপনা করে তার হাতের ভেতর মুষ্টিবদ্ধ করে লোপার দু’টি হাত। লোপা যেন একটু কেঁপে ওঠে। শিহরিত হয় সে অজানা আবেগে। জমাট বাঁধা সে আবেগ বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে ঝরে পরে। কেঁদে ফেলে লোপা অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিচ্ছেদে। মাথার একরাশ চুল ছেয়ে ফেলে তার মুখ আকাশ আঁধার করে। মেঘ ছেয়ে আসে সোহেলের মুখেও। বুকটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। নিঃসীম শূন্যতা এসে ভর করে তার মাঝে। কেমন যেন এক আকাশ হাহাকার করা অনুভূতি। সান্ত্বনা জানাবার ভাষা নেই তাই বাক্রুদ্ধ দু’জন। গভীর দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে দু’জন দু’জনের দিকে। মুখে ভাষা নেই তবু মেঘ মেদুর সে দৃষ্টিতে বলা হয়ে যায় না বলা অনেক কথার কাব্যগাঁথা। ট্রেন মীরবাগ ষ্টেশন পার হয়। রংপুর ষ্টেশন এখন প্রায় ছুঁইছুঁই। পরম মমতায় তারা দুজনই একে অপরের দু’হাত চেপে ধরে থাকে। আর সে হাতের স্পর্শে হাজারো আবেগ-ভালোবাসা-উষ্ণতা আর প্রতিশ্রুতি সঞ্চারিত হয় তাদের মাঝে। তাই তারা অনুরাগ-অনুভুতি মাখা সে চার হাতের মিলন ছাড়তে ভয় পায়। ট্রেন জোড়ে হুইসেল দিয়ে আস্তে আস্তে গতি কমিয়ে ঢুকে পড়ে রংপুর রেলষ্টেশনে, প্লাটফর্মের উঁচু প্রান্ত ছুঁয়ে থেমে যায় এক সময়। ট্রেন বেশী সময় দাঁড়াবে না। ব্যাগ হাতে উঠে দাঁড়ায় সোহেল। পল্লবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লোপার সামনে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু কিছু বলতে পারেনা। আসলে সে জানেনা এমুহূর্তে কি বলতে হয়। লোপা ইতিমধ্যে সামলে নিয়েছে নিজেকে। সেও কিছু বলেনা। শুধু গভীর চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে। তার সে চোখ স্বপ্ন-ভাষা-আবেগ আর ভালবাসায় টইটুম্বুর। সোহেল ট্রেন থেকে নেমে যায়। হিস্হিস্ শব্দে ট্রেন চলতে শুরু করে আবারো। লোপা দাড়িয়ে থাকে ট্রেনের দরজার আংটা ধরে। তাকিয়ে থাকে। দমকা হাওয়া উড়িয়ে নেয় তার মেঘ কালো চুল, ওড়নার প্রান্ত। ভ্রূক্ষেপ করেনা লোপা, তাকিয়ে থাকে শুধু। হাত নারে। একসময় তার যক্ষপ্রিয়ার অবয়ব দূর থেকে দূরে-আরো দূরে ক্রমশ মিলিয়ে যায়। সেখানে এখন নিঃসীম শুন্যতা। সোহেল পা বাড়ায় প্লাটফর্মের বাইরে কিন্তু সে জানে এই পথচলাই শেষ না। তাকে যেতে হবে অনেকদূর, মেঘদূতের পথ ধরে বালুবাড়ি, দিনাজপুর এবং সেটা খুব শীঘ্রই হয়তো কোন এক সোনা মাখা রোদে।
পোস্ট ভিউঃ 28