১
২০০১ সালের নভেম্বরে লন্ডন শহরটা খুব বেশি ঘুরে দেখতে পারিনি কারণ সময়টা মোটেই ভ্রমণের উপযোগী ছিল না। কনকনে ঠাণ্ডা আর হালকা বৃষ্টির মাঝে যতোটা পেড়েছি ঘুরেছি। লন্ডনে মেট্রোকে বলে টিউব আর বিআরটিসি’র ডাবল-ডেকারের মতো দেখতে বাসগুলো ‘রেড লন্ডন বাস’ নামেই পরিচিত। তবে এগুলোতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না, আমি লিখতে যাচ্ছি অন্য একটা বিষয় নিয়ে। টিউবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় এবং রেড লন্ডন বাসে শহরটা ঘুরে দেখার সময়ে শহরের কিছু দেয়াল এবং মেট্রোলাইনের পাশের পাঁচিলে আঁকা কিছু ছবি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। কোথাও স্প্রে পেইন্ট আবার কোথাও প্লাস্টিক পেইন্ট দিয়ে ছবিগুলো আঁকা হয়েছিল। গ্রাফিতি’র সাথে আমার পরিচয়টা ওভাবেই। অবশ্য ছবিগুলোকে যে গ্রাফিতি বলে সেটা জেনেছি আরও অনেক পরে, হিন্দি সিনেমা ‘Ek Tha Tiger’ দেখার পর বিষয়টা নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করার পরে। সিনেমা’র Laapata গানে কিউবার রাজধানী হাভানা’র কোন এক রাজপথের পাশের দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি ‘AMOR CUERDO, NO ES AMOR’ বাক্যটা আমাকে খুব আলোড়িত করেছিল।
ইটালিয়ান শব্দ ‘Grafitiato’ থেকেই গ্রাফিতি শব্দটার উদ্ভব, যার অর্থ "খচিত"। গ্রাফিতি শব্দটি দিয়ে মূলত শিলালিপি, চিত্র অঙ্কন এবং এই ধরনের শিল্পকর্মকে বোঝায়। যেকোন শহরে গেলেই গ্রাফিতি, ভাস্কর্য, স্ট্রিটআর্ট, রাস্তার আইল্যান্ড এবং আশেপাশের ল্যান্ডস্কেপিং, অর্নামেন্টাল প্ল্যান্টেশন এগুলোর দিকেই বেশি নজর পড়ে। দুবাই গিয়েছি ৫/৬ বার, প্রথম যখন ২০০১ সালে যাই তখন দেখেছি তারা মরুর বুকে রাস্তার মাঝে আইল্যান্ডগুলো অর্নামেন্টাল প্ল্যান্ট দিয়ে কিভাবে সাজিয়ে তুলছে, আরও পরে গিয়ে সেগুলোর পরিণত রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কথা বলছিলাম গ্রাফিতি নিয়ে। দেয়াল বা পাঁচিলের ক্যানভাস, রাস্তা, ট্রেন, গুহাচিত্র বা শিলালিপিতে এরকম ছবি আঁকার ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন রোমান শহর পম্পেই বা প্রাচীন গ্রিক শহর এফিসাসে সেসময়ের শিল্পীদের আঁকা গ্রাফিতি এখনো চোখে পড়ে। তবে সেসময়ে এগুলোকে ভালো চোখে দেখা হতো না কারণ তারা মনেকরতো এগুলো পতিতালয়ের বিজ্ঞাপন জাতীয় একটা কিছুর নিদর্শন।
২
আধুনিক গ্রাফিতি চর্চার শুরু গণআন্দোলনের জন্য আমেরিকার বিখ্যাত শহর ফিলাডেলফিয়ায়। ১৯৬৭ সালে ফিলাডেলফিয়ার দেয়ালে দেয়ালে ‘কর্নব্রেড’ ছদ্মনামে ডেরেল ম্যাক্রেই নামে স্কুল পড়ুয়া এক কিশোর চোরাগুপ্তাভাবে গ্রাফিতি করতে থাকে। তাকেই আধুনিক সময়ের প্রথম গ্রাফিতি শিল্পী বলা হয়, পরবর্তীতে এই শিল্পকর্ম আমেরিকার অন্যান্য শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিনের মধ্যেই গ্রাফিতি হয়ে ওঠে বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যম। ফিলাডেলফিয়ার পর ৭০-এর দশকে নিউইয়র্ক শহরের সাবওয়ে রেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে নামে-বেনামে চলতে থেকে গ্রাফিতি শিল্পকর্ম। ট্রেনের ভিতরে-বাইরে, স্টেশনের আশপাশের দেয়াল-রাস্তা হয়ে ওঠে গ্রাফিতি শিল্পীদের ক্যানভাস। ‘ট্রেসি ১৬৮’ ছদ্মনামে মাইকেল ট্রেসি প্রায় ৫০০ গ্রাফিতি আর্টিস্ট নিয়ে নিউইয়র্ক জুড়ে গ্রাফিতি করতে থাকেন। তারা তাদের এই আন্দোলনকে সারা ইউরোপব্যাপী জানান দিতে সক্ষম হন। নিউইয়র্কের গ্রাফিতির পর লন্ডন, মেলবর্ন, প্যারিস, মেক্সিকো শহরে গ্রাফিতি চর্চা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এই শহরগুলোর পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে গ্রাফিতি। এভাবেই গ্রাফিতি ফিলাডেলফিয়া থেকে শুরু হয়ে নিউইয়র্ক- শিকাগো হয়ে বার্লিন প্রাচীরে গিয়ে শিল্প মর্যাদা লাভ করে। আনন্দের কথা আমাদের দেশেও গ্রাফিতি শিল্পকর্মের বেশ প্রসার ঘটছে।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্যানভাস সম্ভবত বার্লিন প্রাচীর। বিভিন্ন দেশের চিত্রশিল্পীরা ১৫৫ কিলোমিটারের প্রাচীরটিকে প্রতিবাদ প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। বার্লিন শহরের মানুষ এবং বিশ্বের গ্রাফিতি শিল্পীদের আবেগে রঞ্জিত হয় বার্লিন প্রাচীর, পশ্চিম বার্লিন দেয়ালকে তাই বলা হয় ‘ফ্রীডম অফ সেন্সরসিপ’। রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও মুক্ত স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে বার্লিন প্রাচীরে রঙ-তুলির প্রথম আঁচরটা দেন ফ্রান্সের শিল্পী চেরি নর। তবে গ্রাফিতির জন্য ‘ইস্ট সাইড গ্যালারি’ হচ্ছে সবচেয়ে সারা জাগানো দেয়াল। এখানে দেড় কিলোমিটার দেয়ালে ১০০-র উপর আলাদা আলাদা গ্রাফিতি ছিল। ওই গ্রাফিতিগুলোর মধ্যে রাশিয়ান শিল্পী দিমিত্রি ভ্রুবেলের আঁকা ‘My God, Help Me to Survive This Deadly Love’ সবচেয়ে আলোচিত গ্রাফিতি, যেখানে বিতর্কিত সোভিয়েত লিডার লিওনিড ও ইস্ট জার্মানির সেক্রেটারি ইরিক হনেচকারকে চুম্বনরত অবস্থায় আঁকা হয়েছে। ১৯৮৯ সালে স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তির পর বার্লিন প্রাচীর থেকে গ্রাফিতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ‘Kilroy was here’ নামের গ্রাফিতি জার্মান সেনাদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তারা এটাকে আমেকিান সেনাবাহিনীর গোপন কোন কোড ভেবে বসেছিল। এই গ্রাফিতিতে ব্যবহৃত চরিত্রের নাম ছিল মিঃ চ্যাড। বর্তমানে প্যালেস্টাইনের প্রায় প্রতিটি শহরের দেয়ালে গ্রাফিতি চোখে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব নীতির বিরোধিতা করে ব্যাঙ্কসি পশ্চিম তীরে ইসরাইল-প্যালেস্টাইন বিভেদকারী দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকেন। ‘টার্গেট ডোভ’ নামে তার আঁকা গ্রাফিতিতে বুলেটগ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত সাদা কবুতর মুখে একটি গাছের ডাল নিয়ে যাচ্ছে আর ইসরাইলি স্নাইপারের বন্দুকের নল তাকে অনুসরণ করছে। বেথেলহামের দেয়ালে আঁকা ‘ব্যাঙ্কসি’র গ্রাফিতি বলছে ‘পৃথিবীর উপর শান্তি বর্ষিত হোক’, তারপাশেই তারকা চিহ্ন দিয়ে লেখা শর্ত প্রযোজ্য। এভাবেই গ্রাফিতি অনেকসময় রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, এভাবেই দুনিয়াজুড়ে মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে গ্রাফিতি।
৩
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রাফিতি সম্ভবত ‘কষ্টে আছি আইজুদ্দিন’, ৯০ এর দশকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় লেখাটা দেখা যেত। আমাদের দেশে এখনও পার্কের গাছ-পালা, গাড়ির সীট-বেঞ্চে, রেলের টয়লেট কিংবা পাবলিক টয়লেটের দেয়ালসহ বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল নাম্বার অথবা অমুক যোগ তমুক লেখা দেখতে পাওয়া যায়। টাকার উপরে লেখা থাকে ‘রোজিনাকে ভুলি নাই’ কিংবা দেয়ালের রাজনৈতিক শ্লোগান বা চিকা মারা ‘জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যুই সেখানে শেষ কথা নয়’, নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক স্বৈরাচার নিপাত যাক’, ট্রাকের ফুয়েল ট্যাংকারে লেখা ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ট্রাক-বাস-সিএনজি’র পিছনে লেখা বিভিন্ন বার্তা এসব হয়তো গ্রাফিতির দেশীয় রূপ। প্রতিটি লেখার পিছনেই মানুষের দর্শন, অপ্রাপ্তি, হতাশা কিংবা বঞ্চনার ইতিহাস লুকিয়ে আছে।
দেয়ালে শ্লোগান বা চিকা মারার চর্চটা বামপন্থী রাজনৈতিক দল বা তাদের ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যেই বেশি। সম্ভবত এরচেয়ে কম খরচে মতাদর্শ প্রচারের আর কোন মাধ্যম না থাকায় তারা এটাকে বেছে নিয়েছেন। কলেজ জীবনে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় আমিও অনেকবার দেয়ালে চিকা মারতে গিয়েছিলাম। সাধারণত দলের মধ্যে যাদের হাতের লেখা সুন্দর তাদেরকেই এই দায়িত্ব দেয়া হয়। মনেপড়ে কতবার সারারাত দেয়ালে দেয়ালে চিকা মেরে ভোর রাতে ঘরে ফিরে মায়ের বকা খেয়েছি। এখনও দেয়ালে হাতের সুন্দর লেখায় আঁকা শ্লোগান কিংবা আলপনা দেখলে থমকে দাঁড়াই, ফিরে যাই ঘাম আর শ্লোগানের দিনে। আগে ব্রাশ এবং বালতিতে জলে গোলানো রঙের প্রচলন থাকলেও এখন স্প্রে পেইন্ট, মার্কার কলম বা প্লাস্টিক পেইন্ট দিয়ে এই কাজগুলো করা হয়ে থাকে। লেখার আধুনিক ফর্মে শ্লোগানের চেয়ে গ্রাফিতির ফর্মটাই বেশি ফুটে ওঠে, এরফলে শ্লোগানগুলো এখন যতোটা জ্বালাময়ী তারচেয়ে বেশি নান্দনিক। বেশ কয়েকবছর আগে, সম্ভবত ২০১৫/২০১৬ সালের দিকে ইসিবি চত্বরের কাছে একটা দেয়ালে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে হিপহপ স্টাইলে আঁকা গ্যাং গ্রাফিতি চোখে পড়েছিল। বিদেশের অনুকরণে এলাকা নির্ধারনি কিশোর গ্যাঙদের এসব গ্রাফিতি একসময় উত্তরায় প্রচুর দেখা যেত। র্যাব-পুলিশ তখন এসব নিয়ে কাজ করেছে। এভাবে গ্রাফিতি অনেকসময় তার শৈল্পিক সুষমা হারিয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের পাশাপাশি ভ্যান্ডালিজমের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এজন্যই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গ্রাফিতি শিল্পীদের সাজার আইন রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রাফিতি’ শিল্পীদের এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। একইভাবে শাস্তির বিধান আছে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশেও।
৪
২০১৭ সালে ঢাকার আগারগাঁও এবং মিরপুরের কয়েকটি দেয়ালে গ্রাফিতি সিরিজ ‘সুবোধ’ পথচারীদের নজরে আসে, এরপর ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পত্র-পত্রিকায় এটা নিয়ে নিউজ করা হয়। এই সিরিজের গ্রাফিতিতে লেখা ছিল ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, এখন সময় পক্ষে না’, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, মানুষ ভালোবাসতে ভুলে গেছে’, ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা, তোর ভাগ্যে কিছু নেই’, কিংবা ‘সুবোধ এখন জেলে, পাপবোধ নিশ্চিন্তে বাস করছে মানুষের মনে’। এই সিরিজের প্রতিটি গ্রাফিতিতে লোগো হিসেবে ‘হবেকি’ (HOBEKI?) শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড স্মরণে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে প্রচুর গ্রাফিতি এঁকেছেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের চারুকলার ভিতরে দেয়ালে প্রচুর গ্রাফিতি চোখে পড়ে। এছাড়া একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর গ্রাফিতি করা হয়। সবচেয়ে ভালোলাগে শহীদ মিনারের আশেপাশের দেয়ালের গ্রাফিতি এবং সংসদ ভবনের সামনে এক কিলোমিটার রাজপথ জুড়ে আঁকা আলপনা বা স্ট্রিট আর্ট। সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মগবাজার ফ্লাইওভারের পিলারগুলোতে প্রচারণামূলক এবং দৃষ্টি নন্দন গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। বাড্ডাতে লেকের পাশে ভুল বানানে ‘বাগের দুদ খেয়ে তোমাকে ভালোবাশব’, ‘দুধ চা খেয়ে গুলি করে দিব’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির দেয়ালে ‘জীবন বড় সুন্দর; চাপ নেয়ার কিছু নাই’, কিংবা হিপহপ স্টাইলে বেইলি রোডের ‘sorry for your wall’, গুলশানের দেয়ালে লেখা ‘Follow the white rabbit’ এসব লেখাকেও গ্রাফিতি বলা যেতে পারে, আর এভাবেই আমাদের সমাজে গ্রাফিতির আবেদন বাড়ছে।
লেখক হুমায়ুন আহমেদ তাঁর একটা লেখায় বিদেশীদের সাথে আমাদের এস্থেটিক সেন্সের তুলনা করতে গিয়ে আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, বিদেশের স্টেডিয়ামে হঠাৎ বৃষ্টি হলে তা রঙ-বেরঙের ছাতায় ছেয়ে যায় অথচ আমাদের দেশে ছাতার একটাই রঙ ‘কালো’। তবে এখন দিন বদলেছে এবং মানুষের রুচির পরিবর্তন ঘটছে কিংবা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন শহরের কিছু কিছু জায়গার ল্যান্ডস্কেপিং, ভাস্কর্য, ম্যুরাল, টেরাকোটা কাজ থেকে শুরু করে স্ট্রিট আর্ট, আলপনা, গ্রাফিতি তার প্রমাণ দেয়। কিছুদিন আগে ক’জন বিদেশী এবং দেশীয় চিত্রশিল্পী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের বগি গ্রাফিতি দিয়ে মুড়ে দিয়েছেন। আসলে আমরা তো সেই নিষাদ জাতির উত্তরসূরি, যারা কাজের অবসরে, পালা-পার্বণে চালের গুঁড়া পানিতে গুলিয়ে বা প্রাকৃতিক উপাদান থেকে রঙ সংগ্রহ করে তাদের মাটির ঘরের দেয়ালে-আঙিনায় আলপনার প্রলেপ এঁকে দিত। এস্থেটিক সেন্স আমাদের রক্তে, আবেগ আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। সেজন্যই ‘AMOR CUERDO, NO ES AMOR’ বাক্যটা এতোটা স্পর্শ করে। আসলেই তো, ভালোবেসে যদি কেউ পাগল না হলো, সেটা আসলে ভালোবাসাই না।
পোস্ট ভিউঃ 24