কবিগুরু কতবার শিলাইদহ এলেন!
জগতিও এলেন-
পদ্মার বুক চিরে বজরায় শাহাজাদপুর অবধি গেলেন,
নোতুন দা'ও এলেন-
কতবার!
দক্ষিণ ডিহি'র মিত্তির বাড়ির মেয়েকে কবি বিয়ে করলেন
তবু তিনি আমাদের গাঁয়ে এলেন না!
গাঁয়ের ঠিক মাঝখানে ঝুরিতে-কান্ডে যে বিশাল বটগাছ!
তার ছায়ার মোহে প্রতি সোম আর বুধবার হাট বসে-
হাটখোলার নাম বউঠাকরুনের হাট,
রবিবাবুর লেখা প্রথম উপন্যাস,
আমাদের গাঁয়ে এলে তিনি নিশ্চিত খুশি হতেন
তাছাড়া কে না জানে! স্বর্গছেঁড়া একটুকরো ভূমির মতোন-
আমাদের এই গাঁয়ের নামটিও 'খন্জনা'!
গাঁয়ের পূবে ইছামতি নামে নদীটা আসলে একটা খাল!
বৈশাখ মাসের খরায় তাতেও হাঁটুজল থাকে
নদীর উপর মাকলা বাঁশের সাঁকো,
সাঁকো পেরোলেই ময়রার দোকান-
নাম ব্রজেশ্বর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার,
সেখান থেকে দু'কদম পরেই ছোট্ট ঘাট, তারপাশে মন্দির-
বিহারী কাকু সন্ধ্যারতিতে শাঁখ আর কাঁসার ঘন্টা বাজান।
হাতের বাঁয়ে মন্দির ফেলে সামনে গোডাউনের মতো যে ঘরটা!
হাটবারে ওখানেই মোটর চালিয়ে সিনেমা দেখায়,
শ্যামবাবু হলঘরটার নাম রেখেছেন 'বলাকা'-
রবি ঠাকুরের কবিতার বইয়ের নামে নাম,
কবিগুরু দেশ-বিদেশে কত জায়গায় গেলেন! ঘুরলেন! তবু-
আমাদের গাঁয়ে কখনও এলেন না,
কে না জানে! আমাদের এই গাঁয়ের নামটিও খন্জনা!
পোস্ট ভিউঃ 19