সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে

কবিতা জলের কাছে যাবো
সুতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে

আমাদের অনেকগুলো নির্ঘুম রাত ছিলো 

আমরা রোজ রাতে নিয়মকরে কথা বলতাম, 

মুঠোফোনের পর্দায় আমরা সারাদিনের সালতামামী নিয়ে বসতাম 

ঠোঁট আর পর্দার দুরত্বে ফিসফিস করে কথা বলতাম। 

অফিস ছুটির শেষে ঘরে ফেরা পর্যন্ত 

পথে কি কি ঘটতো আমরা তার খুঁটিনাটি জেনে নিতাম। 

রুদ্র গোস্বামীর সুপ্রভাতের মতো আমাদের অসংখ্য শুভরাত্রি ছিলো 

ভালোবাসার দীপাবলি জ্বালিয়ে আমরা শুভরাত্রি বলতাম, 

ভালোবাসায় আর্দ্র হয়ে আমরা ঘুমোতে যেতাম 

আমাদের ঘুমগুলো ছিলো স্বপ্নে ভেজা।


আমরা মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা দিয়ে দিনগুলো শুরু করতাম 

তাই আমাদের সকালগুলো ছিলো সত্যিই অন্যরকম, 

চায়ের কাপের ধোঁয়ার সাথে ভালোবাসার স্বর্গীয় স্পর্শগুলো 

আমাদের বুঁদ করে রাখতো। সারাটা দিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে 

আমরা বার্তা চালাচালি করতাম, একে অপরের খোঁজ নিতাম 

নাস্তা খেয়েছো কিনা, মন খারাপ কেন, বস বকেছে নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি। 

শুধুমাত্র ভর্ৎসনা করেছে জেনে অফিসের ঐ টেকো বসটাকে 

আমার কতদিন খুন করতে ইচ্ছে করতো আমরা তা জানতাম, 

আমরা তাকে নিয়েও অল্পবিস্তর হাসাহাসি করতাম 

আমরা একে অপরের ভালোবাসায় বিলীন হয়ে থাকতাম।


আমাদের অনেকগুলো দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছিলো, কিন্তু তবুও 

আমরা স্বপ্ন দেখতাম, পথ চলতাম সমান্তরাল রেখায়, 

আমাদের গল্পের ছিলো না সফল সমাপ্তি, না ছিলো ভবিষ্যৎ 

আমরা আসলে জানতাম আমাদের পরিণতি। 

আমাদের ছিলো ভালোবাসায় দগ্ধ প্রহর, না পাবার ব্যাকুলতা 

তবুও আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতাম। 

মাথার ভেজা বালিশ আর রাতাজাগা দেয়াল ঘড়িটা শুধু জানতো 

আমাদের কষ্টের কথা, না ফোঁটা অনুভূতিগুলো, 

আমরা জানতাম সূতোর প্রান্তে দাঁড়িয়ে 

আমরা একে অপরকে ভালোবাসি বলতে পেরেছিলাম।



পোস্ট ভিউঃ 32

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমার শব্দযাত্রায় সঙ্গী হতে