তুমি হয়তো জানো আমি একদিন-
খুব সামান্য একটা কিছুর জন্য নিরুদ্দেশ হতে পারি
গৃহত্যাগী হতে পারি কোন এক ফাগুনের জোছনা ভেজা রাতে।
তুমি জানো আমি হয়তো একদিন-
ঘুঁটে শালিকের করুণ আহাজারির জন্যও মরে যেতে পারি,
কিংবা ধরো অশ্বত্থ পাতার ফাঁকে লুকিয়ে থাকা নিঃসঙ্গ খঞ্জনা-
আমি তার ব্যাথায় নীল হয়ে যেতে পারি বিশ্বাস করো,
তিস্তার বাঁকে বাসকের ঝোপে সাদা সাদা ফুলের যে ফুলঝুরি
আমি সেই অযুত সাদার মাঝে লুকিয়ে থাকা-
ভবঘুরে জোনাকির বুকের তীব্র দহন হতে পারি।
আমি আকাশের নীল অসীমের মাঝে-
পরিযায়ী বলাকার ফেলে আসা পথের ঠিকানা হতে পারি,
আমি হতে পারি কোন এক দস্যি ছেলের চঞ্চল দু’হাতে-
চৈত্রের-বোশেখের কোন মাতাল প্রহরে
দিকভ্রান্ত ঘুড়ির লাটাই কিংবা লাটিমের রঙিন সুতো।
তোমাকে ভালো বাসতে-বাসতে
আমি প্রদীপের ক্ষয়ে যাওয়া শিখা হতে পারি জানো!
মাত্র দু’ফোঁটা জলের জন্য একবুক তৃষ্ণা নিয়ে-
আকাশের দিকে পলাশের যে করুণ তাকিয়ে থাকা,
আমি সেই অনন্ত তৃষ্ণার বাসনা বুকে নিয়ে
শুধু একমুঠো ভালোবাসা পাবার জন্য-
বুনো মোষের মতো তোমার কাছে বারবার ছুটে যেতে পারি।
আগুনের লেলিহান শিখায় ভেজাতে পারি বুকের খাঁচায় আবদ্ধ স্বপ্নগুলো-
শুধু তোমাকে ভালোবাসার জন্য লীনা।
তুমি হয়তো মোমের শিখার মাঝে-
তপ্ত লাভার স্রোতের মতো ক্রমাগত গলে পড়া আবেগ দেখেছো,
কিংবা দেখেছো ধূপের মাঝে মিলিয়ে যাওয়া নরম স্পর্শগুলো,
কিন্তু তাদের হৃদয়ের গভীরতা মেপেছো কি!
দেখেছো কি তাদের বুকে পাথর চাপা ক্ষত-দগদগে ঘা গুলো!
তোমাকে ভালোবেসে মোমের শিখা কিংবা ধূপের পোড়া ক্ষত নিয়ে-
আমি অন্যরকম ভাবে বেঁচে আছি।
তুমি দেখেছো কি পোষের সোনামাখা রোদে,
শুধু একটুকরো উষ্ণতা পাবার জন্য
চড়ুইয়ের ধূসর ডানার আড়ালে ছোট্ট বুকখানির-
কি রকম থরহরি কাঁপন!
আমি সেই কাঁপনের তীব্র অনুভূতি মুঠোয় ভরে-
নিঃস্ব উল্কাপিন্ডের মতো তোমার কাছে ছুটে গিয়েছি কত বার
শুধু এতোটুকু উষ্ণতার জন্য।
আদর করে তোমার নাম দিয়েছিলাম হিম কুমারী,
কারণ তুমি সামান্য শীতেই কাতর অথচ আমার শরীরে তখন-
জ্যৈষ্ঠের কি দারুণ দাবদাহ!
যেন অজস্র চিতার আগুণ হয়ে ঘুরে ফিরছি এ জগত সংসারে,
আমি হয়তো শীত-গরম অনুভূতির এই সামান্য অন্তর্দ্বন্দের জন্য-
আমি হয়তো খুব সামান্য একটা কিছুর জন্য,
অতিক্ষুদ্র একটা কিছুর জন্য তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে পারি।
পোস্ট ভিউঃ 6