আজ সকাল থেকেই পাভেলের মনটা খারাপ হয়ে আছে। রংপুর থেকে টেলিগ্রাম এসেছে, বাবা সামনের সপ্তাহেই রায়গঞ্জে আসছেন অর্থাৎ পাভেলের স্কুল ছুটির রঙিন দিনগুলো শেষ হতে যাচ্ছে।
পাভেল এর আগে দিনের বেলায় অনেকবার রেশাদ মামার বাসায় বেড়াতে গেলেও রাতের আঁধারে এবারই প্রথম যাচ্ছে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে চারদিকে কোন কিছুই ঠাহর করা যায়না। গাছপালা-ঝোপ-ঝাড়গুলো দেখতে ক্যামন জমাট বাঁধা অন্ধকারের মত লাগে।
গ্রীষ্মের এই খরদুপুরে সুর্যটা চারদিকে কেমন ঝাঁ ঝাঁ উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় আকাশের নীল রেখার দিকে বেশীক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায়না। পাভেল তবুও ডান হাত দিয়ে চোখ দু’টা আড়াল করে আকাশের দিকে তাকায়।
প্রতিদিনের মতো সেদিনও সফুরা বেগম অনেক ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে জাউভাত রান্নার জন্য চুলায় আগুন দেন। ভেজা-স্যাঁতস্যাঁতে খড়িতে আগুণ একটু ধরেই আবারো নিভে যায়। তিনি বিরক্ত হয়ে আবারো চেষ্টা করতে থাকেন।
পাভেলের নানাজান জামিল সাহেব আর মুক্তা খালাদের পরিবার ১৯৪৭ সালের আগে আসামের কুচবিহারে একই গ্রামে থাকত। দেশভাগের সময়ে জামিল সাহেব অন্যান্য আরও অনেক পরিবারের মত এপার বাংলায় মাইগ্রেট করার সিদ্ধান্ত নিলে মুক্তা খালার বাবা অর্থাৎ লতিফ সাহেবও তার সঙ্গে এই ছায়া সুনিবিড় গ্রাম রায়গঞ্জে এসে থিতু হন। গ্রামটা আসলেই একটা সবুজ ক্যানভাসের মত।