আট বছর আগে দীর্ঘ অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে দেশে ফেরার পর নসুকে আগের মত কোন দায়িত্বে না রেখে বরং সুপারী কিলার বা প্রফেশনাল কিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কন্ট্রাক্ট কিলিং-এর মতো বিশেষ ধরনের কাজগুলোই আসলে তার জন্য উপযুক্ত। কলকাতার অপরাধ জগতে নেপালের তরাই এলাকার মদেশিয়া বা বিহারের কিলারদের সাথে রীতিমত পাল্লা দিয়ে কাজ করতে যেয়ে নসু অস্ত্র ব্যবহারে অনেক পরিণত এবং দক্ষ হয়েছে। তাছাড়া অভিজ্ঞতা ও বয়সের কারণেও তার চেহারায় সম্প্রতি একটা ভারিক্কি ভাব এসেছে।
সোনিয়া একটা টিভি চ্যানেলের ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে একসময় খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছিল। খুলনার বি.এল কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়লেও তার মন কিন্তু পড়ে থাকত অন্য কিছুতে। পড়াশুনার বদলে নিত্য নতুন ফ্যাশনের পোশাক আর সাজগোজ নিয়ে তার মেতে থাকতে ভাল লাগত।
শামসুজ্জামান এই বোর্ডিং হাউজের তিনজন ফ্লোর বয়ের একজন। কিন্তু অনিল দাসের কথায় কেউ সাড়া দিলো না। কিছুক্ষণ চুপচাপ অপেক্ষা করে আবার ক্যাশে ফিরে গিয়ে ভাবলেন ওটা সম্ভবত বিড়ালের লাফিয়ে পড়ার শব্দ। ইঁদুরের যা উৎপাত বেড়েছে আজকাল! সারাদিন এখানে সেখানে ইঁদুর আর বিড়ালের ছোটাছুটি চলতেই থাকে, এক মুহুর্তও শান্তিতে থাকবার জো নেই। তিনি ফতুয়ার কোণায় চশমার পুরু লেন্স ঘষে আবারো হিসেবের খাতায় মনযোগ দিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজে মন বসেনা, সুরটা কেটে গেছে যেন।